haryana

ওয়েবডেস্ক: গ্রামের নাম রামগড় নয়। ভদ্রলোকের নামও নয় বীরু। কিন্তু আদতে নাতির সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে ‘শোলে’ ছবির মেলোড্রামাকেই বাস্তবে বড়োদিনে ফিরিয়ে আনলেন বছর ষাটেকের কৃষ্ণ কুমার।

পুলিশ জানিয়েছে, কৃষ্ণ কুমারের বাড়ি বাহাদুরগড় গ্রামে। কিন্তু স্রেফ নাতির সঙ্গে মোলাকাতের বন্দোবস্ত পাকা করতে ৬০ বছরের এই বৃদ্ধ চলে আসেন জিন্দের সাফিদনে। এর পর ১৫০ ফুট উঁচু এক মোবাইল টাওয়ারের মাথায় উঠে যান। সেখান থেকে চিৎকার করে সবাইকে হুমকি দিতে থাকেন বৃদ্ধ। সাফ জানিয়ে দেন, নাতির সঙ্গে তাঁকে দেখা করার অবাধ অনুমতি দেওয়া না হলে তিনি আত্মহত্যা করবেন! আর কেউ যদি তাঁকে নামানোর জন্য উপরে ওঠার চেষ্টা করেন, তবে সঙ্গে সঙ্গেই টাওয়ার থেকে লাফ দেবেন তিনি!

“বড়ো ছেলে কমলের সন্তান অলোককে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন এই বৃদ্ধ। তাঁদের সঙ্গেই থাকতেন তিনি সাফিদনে। কিন্তু পারিবারিক বচসায় পিতা-পুত্রে মতভেদ হওয়ায় বাবাকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য অলোককে পানিপথে মামার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন কমল। তার পরেই সোমবার এই কাণ্ড”, বলেছেন সাফিদনের পুলিশ ইন-চার্জ রবীন্দ্র সিং।

জানা গিয়েছে, প্রায় ঘণ্টা পাঁচেক চলে বৃদ্ধের এই জেহাদ। উপায় না দেখে অবশেষে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে বাধ্য হন সাফিদনের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট বীরেন্দ্র সিং। তাঁর আশ্বাসেই একমাত্র কাজ হয়। তিনি বৃদ্ধকে প্রতিশ্রুতি দেন, নাতির সঙ্গে তাঁর থাকার ব্যবস্থা প্রশাসন করবে, কেউ তাঁকে এ ব্যাপারে বাধা দিতে পারবে না ভবিষ্যতে। এর পরেই একমাত্র শান্ত হন কৃষ্ণ, নেমে আসেন টাওয়ার থেকে। সঙ্গে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে গোটা এলাকা।

এতটা উঁচুতে ওঠা-নামা করলেও কৃষ্ণ কুমার সুস্থই আছেন। তাঁর কোনোরকম শারীরিক আঘাত লাগেনি, জানিয়েছে সাফিদন পুলিশ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here