চণ্ডীগড় : হানিপ্রীত সিং ইনসানের নামে লুকআউট নোটিশ জারি করল হরিয়ানা পুলিশ। শুক্রবার এই নোটিশ জারি করার পরে দেশের সব ক’টি রেলস্টেশন, বিমানবন্দর, বাস টার্মিনাস-সহ সর্বত্র কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। হানিপ্রীতের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, দাঙ্গা, বিক্ষোভ-সহ একাধিক মামলা রয়েছে। এমনকি ধর্ষণের মামলায় ২০ বছরের কারাবাসের শাস্তি পাওয়ার পর ডেরাপ্রধান গুরমিত রাম রহিম সিংহকে পুলিশের হাত থেকে বের করে নেওয়ার ষড়যন্ত্রের মামলাও করা হয়েছে ডেরাপ্রধানের দত্তক কন্যা এই হানিপ্রীতের বিরুদ্ধে। একই নোটিস জারি করা হয়েছে, ডেরা সাচা সৌদার মুখপাত্র পলাতক আদিত্য ইনসানের বিরুদ্ধেও। আদিত্য ভক্তদের বিক্ষোভ দেখানোর জন্য উসকে ছিল বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন: রায় ঘোষণার দিন হরিয়ানা পুলিশের একাংশের সাহায্য নিয়ে পালানোর ছক ছিল রাম রহিমের

হরিয়ানা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার বলেন, আদালতে রামরহিম দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে ডেরাপ্রধানের ভক্তদের গণ্ডোগোল করতে উসকে ছিল হানিপ্রীত।

কয়েকটি রিপোর্টে জানা গেছে, হানিপ্রীতি আপাতত রোহতকের এক ডেরা অনুগামীর বাড়িতে গা ঢাকা দিয়ে আছে।

আদালতের রায়ের দিন ডেরা অনুগামীদের তাণ্ডবে প্রাণ হারান ৩৮ জন। নষ্ট হয় কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তিও। এই তাণ্ডবের অন্যতম চক্রী আদিত্য ইনসান। অপর এক ষড়যন্ত্রকারী সুরেন্দার ধীমানকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, রায়ের দিন পাঁচকুলা আদালত চত্ত্বর থেকে রোহতকের জেলে রাম রহিমকে নিয়ে যাওয়ার সময় বিশেষ চপারে উপস্থিত ছিলে হানিপ্রীত। আদালত চত্ত্বের বিভিন্ন ছবিতেও ডেরা প্রধানের পাশেই বসে থাকতে দেখা গেছে দত্তক কন্যাকে। এ সব সম্ভব হল কী করে —- এই উত্তর খুঁজে বার করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, হানিপ্রীত নিজেকে একাধারে অভিনেতা, পরিচালক ও সম্পাদক বলে দাবি করে। সে গুরুবাবাকে ছবি বানাতে সাহায্য করে। ২০১১ সালে প্রথমবার খবরের শিরোনামে আসে হানিপ্রীত। পাঁচকুলার বাসিন্দা তার স্বামী সেই সময় পঞ্জাব ও হরিয়ানার আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছিল, স্ত্রী হানিপ্রীতকে যৌন নিগ্রহ করেছে তাদের ধর্মগুরু। কিন্তু পরে আদালতের বাইরেই সমঝোতা করে সেই মামলা তুলে নেয় হানিপ্রীতের স্বামী।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here