pravin togadia

অমদাবাদ: বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়ার হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া এবং পরে হাসপাতালে তাঁর ভর্তি হওয়ার পিছনে সন্দেহজনক রহস্যের গন্ধ পাচ্ছিল রাজনৈতিক মহল। মঙ্গলবার অমদাবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করে সেই সন্দেহ আরও জোরদার করে দিলেন তোগাড়িয়া স্বয়ং। পাকেপ্রকারে বুঝিয়ে দিলেন বিজেপির শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখন আদায় কাঁচকলায়।

প্রায় সারা দিন নিখোঁজ থাকার পর সোমবার রাতে অমদাবাদের একটি হাসপাতালে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়াকে। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে কার্যত বিস্ফোরণ ঘটালেন তিনি। জানিয়ে দিলেন, তাঁকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

praveen togadia
সাংবাদিক সম্মেলনে প্রবীণ তোগাড়িয়া।

তাঁর অন্তর্ধানের পেছনে রাজস্থান পুলিশকেই দায়ী করেন তোগাড়িয়া। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “এক বছরের পুরোনো একটি মামলায় আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমার আওয়াজ বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। রাজস্থান পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করতে এসেছিল। কেউ একজন বলছিল এনকাউন্টার করে আমাকে মেরেও ফেলা হতে পারে।”

তোগাড়িয়া বলেন, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুলাব চাঁদ কাটারিয়ার আশ্বাস সত্ত্বেও পুলিশ তাঁকে ধরতে এসেছিল। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমায় বলেছিলেন যে পুলিশ আমায় ধরবে না। কিন্তু পরে বুঝেছিলাম যে তাঁরা পুলিশি অভিযানের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন। তার পর থেকেই মোবাইল বন্ধ করে দিই যাতে আমার অবস্থানের ব্যাপারে কিছু জানতে না পারে পুলিশ।” আইবিকে দিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হচ্ছে, এমনও অভিযোগ করেন তোগাড়িয়া।

তোগাড়িয়া বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কার্যনির্বাহী সভাপতি। কিন্তু এতটুকুও মোদী-অনুরাগী নন। বাস্তবে বরং ঠিক উলটো কাজটাই করে থাকেন। বিজেপি-সেনাপতি অমিত শাহকেও রেয়াত করেন না তিনি। রাজনৈতিক মহলের তাই অনুমান, নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এবং হাসপাতালে নিজেকে অসুস্থ বলে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা, পুরোটারই মূলে আছে দ্বৈরথ। নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহর সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকাতেই নাকি এ ভাবে আত্মরক্ষার বর্ম পরেছেন প্রবীণ তোগাড়িয়া।

রাজনৈতিক মহল এই যুক্তির স্বপক্ষে ফিরে তাকাতে বলছে অতীতে। বিজেপির একটি সূত্র জানাচ্ছে, গুজরাত ভোটে মোদী এবং শাহের বিরোধিতায় অনুগামীদের নিয়ে সক্রিয় হয়েছিলেন তোগাড়িয়া। পরিণামে ২০১৭-র ডিসেম্বরে তাঁকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কার্যনির্বাহী সভাপতির পদ থেকে অপসারণের পরিকল্পনা করা হয়। সেই পদে হিমাচল প্রদেশের প্রাক্তন রাজ্যপাল বিষ্ণু সদাশিব কোকজের নাম প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু সে বার ভোট পড়েছিল তোগাড়িয়ার পক্ষেই। ফলে, তাঁকে অপসারিত করার পরিকল্পনাটি মাঠেই মারা যায়।

তবে, এ বার নাকি আর ভুল দান দিতে চাননি মোদী-শাহ। আঁটঘাঁট বেঁধেই নেমেছেন কাজে। দাবি করা হচ্ছে, সেই পরিকল্পনা মাফিক রাজস্থানের একটি সভায় (রাজস্থান একটি বিজেপিশাসিত রাজ্য) ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে ২০১৫ সালে যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল তোগাড়িয়ার বিরুদ্ধে, ফের তা চালু করা হয়। গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয় তোগাড়িয়ার নামে। রাজস্থান পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করতে আসছে, এটা বুঝতে পেরেই গা-ঢাকা দেন এই বর্ষীয়ান নেতা। পরে অসুস্থতার দাবিতে নিজেকে ভর্তিও করান হাসপাতালে।

pravin togadia

তোগাড়িয়ার এই পদক্ষেপের স্বপক্ষে যুক্তি হিসাবে তাঁর পদমর্যাদার কথা তুলে ধরতে চাইছে রাজনৈতিক মহল। দাবি করছে, যে নেতা জেড স্তরের নিরাপত্তা পান, তিনি কী ভাবে অটোয় চড়ে নিখোঁজ হতে পারেন! কেন না জানা গিয়েছে, সোমবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দফতর থেকে সকাল ১০টায় একটি অটো নিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান তোগাড়িয়া। ইতিমধ্যে রাজস্থান পুলিশ গ্রেফতার করতে এসে তাঁকে বাড়িতে না পেয়ে ফিরে যায়। পাশাপাশি, নিখোঁজ নেতার উদ্ধারের দাবিতে অনুগামীরা সরকেজ-গান্ধীনগর পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।

সঙ্গত কারণেই তাই প্রশ্ন উঠছে, যদি শাহিবাগের একটি পার্কে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকেন তোগাড়িয়া, তবে কেউ তাঁর খোঁজ পেলেন না কী ভাবে? অমদাবাদের পরিচিত এই নেতাকে কেউ পার্কে সনাক্তই বা করতে পারল না কেন?

নানা প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে তোগাড়িয়ার কাণ্ডকারখানা ঘিরে। তবে এটুকু পরিষ্কার, দিনগুলো কিন্তু মোটেই ভালো যাচ্ছে না কেন্দ্রের শাসকদলের।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন