supreme court

নয়াদিল্লি: সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের তোয়াক্কা না করে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী বিএস ইয়েদিয়ুরাপ্পাকে শপথ নিতে ডেকে কর্নাটকের রাজ্যপাল বজুভাই বালা ‘সংবিধানের অবমাননা করেছেন, গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন’। এই অভিযোগ তুলে ইয়েদুরাপ্পার শপথ আটকাতে বুধবার রাতেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় কংগ্রেস। শীর্ষ আদালত ইয়েদিয়ুরাপ্পার শপথে স্থগিতাদেশ না দিলেও জানিয়ে দিয়েছে, এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার গঠন করা যাবে না। শুনানি শুক্রবারেও চলবে।

বিচারপতি এ কে সিকরি, বিচারপতি এস এ বোবডে এবং বিচারপতি অশোক ভূষণের ডিভিশন বেঞ্চ শেষ রাতে শুনানি শুরু করে। রাত ২.১১ থেকে ভোর ৫.২৮ পর্যন্ত শুনানি চলে। মন্ত্রিসভা গঠনের দাবি জানিয়ে রাজ্যপালকে যে সব চিঠি ইয়েদুরাপ্পা দিয়েছেন, সেই সব চিঠি আদালতে পেশ করার জন্য কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। বেঞ্চ বলেছে, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য ওই চিঠি আদালতে জমা পড়া খুবই জরুরি।

কংগ্রেস-জেডি(এস) জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি জানিয়ে রাজ্যপালকে যে চিঠি দিয়েছিল সে ব্যাপারে জবাব চেয়ে কর্নাটক সরকার ও ইয়েদিয়ুরাপ্পাকে নোটিশ পাঠিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।

বেঞ্চ বলেছে, ” বিএস ইয়েদিয়ুরাপ্পার শপথগ্রহণে স্থগিতাদেশ নিয়ে আদালত কোনো নির্দেশ জারি করছে না। এই সময়ের মধ্যে যদি তাঁর শপথ হয়ে যায়, তবুও সেই শপথ আদালতের পরবর্তী নির্দেশ এবং এই মামলার চূড়ান্ত ফলের সাপেক্ষে হবে।”

কংগ্রেস-জেডি(এস) জোটের তরফে যুক্তিজাল বিস্তার করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তিনি বলেন, হয় শপথ গ্রহণ স্থগিত রাখা হোক, কিংবা পিছিয়ে দেওয়া হোক। বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, স্থগিতাদেশ নয়।

আরও পড়ুন স্থগিতাদেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট, বিতর্কের মধ্যেই তড়িঘড়ি শপথ ইয়েদিয়ুরাপ্পার

কেন্দ্রের তরফে আদালতে হাজির ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল কেকে বেণুগোপাল এবং বিজেপির তিন বিধায়কের তরফে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মুকুল রোহতগি। তাঁরা সিঙ্ঘভির আবেদনের বিরোধিতা করেন। বেণুগোপাল বলেন, “বিজেপি নেতা ইয়েদুরাপ্পা ও রাজ্যপালের বৈঠকে কী কথা হয়েছে আমরা জানি না। ইয়েদুরাপ্পার কোনো প্রতিনিধি এই আদালতে আছেন কি না জানি না। গোটা ব্যাপারটা নিয়েই ধোঁয়াশা রয়েছে এবং নানা জল্পনা চলছে।”

মধ্যরাতে যে ভাবে রিট আবেদন জমা করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রোহতগি। তিনি বলেন,”কাল শপথ হলে আকাশ ভেঙে পড়বে না। এটা তো জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন নয়, বা কাউকে ফাঁসি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে তা-ও নয়।”

তিনি বলেন, রাজ্যপালের সাংবিধানিক দায়িত্ব হল সরকা্র গঠনে কোনো একটা দলকে আমন্ত্রণ জানানো। এবং তাঁর কাজ সব সময়েই আদালতের বিচার্য। আদালত চাইলে পূর্বাবস্থা ফিরিয়ে দিতে পারে, যেমনটি অরুণাচল প্রদেশের ক্ষেত্রে হয়েছিল। সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা থেকে এক জন সাংবিধানিক পদাধিকারীকে আদালতের আটকানো উচিত নয়। আমাদের দেশে একটি কাজের ব্যাপারে কৈফিয়ত চাওয়া যেতে পারে কিন্তু রাজ্যপালের পদে স্থগিতাদেশ দেওয়া যেতে পারে না।

কংগ্রেস, জেডি(এস) এবং বিজেপি ক’টা করে আসন দখল করেছে শুনানির শুরুতেই তার হিসেব দেন সিঙ্ঘভি। তিনি জানান, বিধানসভায় কংগ্রেস-জেডি(এস) জোটের আসনসংখ্যা ১১৭, যেখানে বিজেপির ১০৪, সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১১২) থেকে যা কম। সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য রাজ্যপালের ১৫ দিন সময় দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিঙ্ঘভি। তাঁর দাবি, এর ফলে ‘ঘোড়া কেনাবেচা’ হবে এবং কিছু এমএলএ-র ‘চোরাশিকার’ও হবে। সিঙ্ঘভি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য ইয়েদিয়ুরাপ্পা নিজে কত দিন সময় চেয়েছিলেন, সে ব্যপারে তাঁরা নিশ্চিত নন। তবে তাঁর কাছে যা খবর আছে তা থেকে জানা যায়, ইয়েদিয়ুরাপ্পা নিজে সাত দিন সময় চেয়েছিলেন। ইয়েদিয়ুরাপ্পার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অন্তত পক্ষে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান সিঙ্ঘভি এবং বলেন, রাজ্যপালকে লেখা ইয়েদুরাপ্পার চিঠিগুলো আদালতে পেশ করার জন্য কেন্দ্র বা বিজেপিকে বলা হোক।

তবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “কীসের ভিত্তিতে ইয়েদিয়ুরাপ্পাকে ডেকেছেন রাজ্যপাল, সত্যিই আমরা তা জানি না।”  কিন্তু তাঁর মতে, শপথ স্থগিত করা বা পিছিয়ে দেওয়া উচিত নয়, কারণ রাজ্যপালের পদটি সাংবিধানিক পদ। আর এই অনুষ্ঠান স্থগিত করে দিয়ে কোনো লাভ নেই। কারণ ইছা করলেই ‘এই পরিস্থিতি পালটে ফেলা যায়’। বেণুগোপাল বলেন, “বিষয়টি আদালতে শোনা হোক। ও দিকে বিধানসভার কক্ষে আস্থাভোট হোক। এতে করে কোনো অপূরণীয় ক্ষতি হবে না।”

বিচারপতি সিকরি, বিচারপতি বোবডে এবং বিচারপতি ভূষণের ডিভিশন বেঞ্চ বলে, “এখানে তিনটি প্রধান দল – বিজেপি একক বৃহত্তম, কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থানে এবং জেডি(এস) তৃতীয়। কংগ্রেস-জেডি(এস) জোট বিজেপিকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। তা হলে এই পরিস্থিতিতে কীসের ভিত্তিতে সরকার গড়ার দাবি জানাতে পারেন ইয়েদিয়ুরাপ্পা? আমাদের হাতে সেই চিঠিগুলো নেই। সবই অনুমানের ভিত্তিতে হয়েছে। অঙ্ক ব্যাপারটা এমনি যে যার ভিত্তিতে এ সব হয়েছে সে সবকে ঘুলিয়ে দিতে পারে।”

কংগ্রেস-জেডি(এস) জোটের নেতা হিসাবে এইচডি কুমারস্বামী বিধায়কদের যে সইসাবুদ জমা করেছেন তাঁর প্রামাণিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, “তাঁরা যে বিধায়কদের স্বাক্ষর করা চিঠি জমা করেছেন সে সব খাঁটি নাও হতে পারে।”

রাত ২টোয় বসে শুনানি করার জন্য বিচারপতিত্রয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে সিঙ্ঘভি এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ বলে অভিহিত করেন।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here