বন্যার পর দহনজ্বালায় জেরবার উত্তরপূর্ব ভারত, পারদ চড়ছে উত্তরবঙ্গেও

ওয়েবডেস্ক: এখন ভরা বর্ষার সময়। প্রবল বৃষ্টিতে ভাসতে থাকাই দস্তুর। কিন্তু ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে উত্তরবঙ্গ এবং অসমে। প্রবল বর্ষণ তো দূরে থাক, ছিটেফোঁটা বৃষ্টিও বিশেষ জুটছে না। তার জেরে তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অসম-সহ উত্তরপূর্ব ভারত ও উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়। অসমের পরিস্থিতি আরও কিছুটা খারাপ। সেখানে দু’ দিনের জন্য স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছিল কামপুর জেলা প্রশাসন। যদিও সেই নির্দেশ পরে তুলে নেওয়া হয়।

অসমের কিছু কিছু জায়গায় পারদ ইতিমধ্যেই ৪০ ছুঁয়ে ফেলেছে। যেমন নর্থ লখিমপুর। সেখানে পারদ রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯.৮ ডিগ্রি। গুয়াহাটি-শিলচরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ ছাড়িয়েছে। অসম ছাড়িয়ে গরমের দাপট পৌঁছে গিয়েছে উত্তরপূর্বের বাকি রাজ্যেও। অরুণাচলের রাজধানী ইটানগরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি, পাসিঘাটে ৩৫। মণিপুরের ইম্ফলে সর্বোচ্চ পারদ উঠেছে ৩২-এ। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছে। সব পারদই স্বাভাবিকের থেকে চার থেকে পাঁচ ডিগ্রি করে বেশি।

মেঘালয়ের রাজধানী তথা শৈলশহর শিলংয়ের সর্বোচ্চ পারদ ছিল ২৮ ডিগ্রি। এটাও স্বাভাবিকের থেকে পাঁচ ডিগ্রি বেশি। উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতিও বেশ খারাপ। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি সর্বত্র সর্বোচ্চ তপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭-এ ঘোরাফেরা করছে। দার্জিলিংয়ে সর্বনিম্ন ১৭-তে উঠে গিয়েছে।

এই বর্ষার শুরুতে দু’ বার অতি প্রবল বৃষ্টির সম্মুখীন হয়েছিল উত্তরবঙ্গ। বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। গজোলডোবায় তিস্তায় চরম সতর্কতা জারি করতে হয়েছিল। জুলাইয়ের শেষে দক্ষিণবঙ্গের বর্ষা যখন প্রায় ৫০ শতাংশ ঘাটতিতে, তখন উত্তরবঙ্গে বর্ষা ছিল ১০ শতাংশ বাড়তিতে। কিন্তু তার পর থেকেই কেমন যেন বদলে গেল আবহাওয়ার পরিস্থিতি। এখন দক্ষিণবঙ্গে ঘাটতি কমতে কমতে ২৬ শতাংশে এসেছে, অন্য দিকে উত্তরবঙ্গে ঘাটতিতে পৌঁছে গিয়েছে ৮ শতাংশে।

আরও পড়ুন চালু হল কাঠমান্ডু-শিলিগুড়ি বাস পরিষেবা

জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে সে ভাবে আর অতি প্রবল বৃষ্টির দেখা নেই উত্তরবঙ্গে। কিছু দিন আগে পর্যন্ত যা-ও বা বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হচ্ছিল, এখন সেটাও বন্ধ। এই পরিস্থিতির জন্য মৌসুমী অক্ষরেখা না থাকাকে দায়ী করেছে বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমা। সেই সঙ্গে জোর বৃষ্টি নামানোর মতো ঘূর্ণাবর্তও নেই। ফলে এই অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সংস্থার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা মনে করেন, এই সপ্তাহের শেষে একটা ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। তীব্র গরম থেকে স্বস্তি দিতে পারে সেই ঘূর্ণাবর্তই। শুরু হতে পারে ভারী বর্ষণ। তত দিন পর্যন্ত গরমকে সহ্য আর বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টিতেই ভরসা রাখতে হবে উত্তরবঙ্গ-সহ সমগ্র উত্তরপূর্বের মানুষকে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.