ওয়েবডেস্ক: সুস্থ মস্তিষ্কের যে কোনো মানুষের এই ছবি দেখলে অসুবিধে হবেই। মা আর তার বাচ্চা হাতি কোনো ভাবে ঢুকে পড়েছিল লোকালয়ে। ওদের লেজে আগুন লাগিয়ে তারিয়ে তারিয়ে দেখছিল কয়েকশো স্থানীয় মানুষ। পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার এই নারকীয় দৃশ্য ফ্রেমবন্দি করেছিলেন আলোকচিত্রী বিপ্লব হাজরা। স্যাঙ্কচুয়ারি এশিয়া ওয়াইল্ডলাইফ ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে সেই ছবি তাঁকে এনে দিল ২০১৭-র সেরা আলোকচিত্রের সম্মান।

শিল্পী বিপ্লব হাজরা ছবির নাম দিয়েছিলেন ‘হেল ইজ হিয়ার’। যথাযথ নাম। পশুপাখিদের প্রতি মানুষের মনুষ্যেতর আচরণ কী ভাবে সুন্দর পৃথিবীটাকে ওদের কাছে নরক বানিয়ে তুলছে দিন দিন, তারই এক টুকরো ধরা পড়েছে ফ্রেমে। হাজার কথা বলতে চাওয়া একটা ফ্রেম।

আরও পড়ুন; ‘গ্রিন অস্কার’ সম্মান পেলেন অসমের পরিবেশ সংরক্ষক পূর্ণিমা বর্মণ

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সারা এশিয়ার হাতিদের জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ কিন্তু রয়েছে ভারতেই। হাতি ছাড়াও অরণ্যের অন্য জীবজন্তুর সংখ্যাও ভারতে নেহাত কম নয়। বন্যপ্রাণীর অধিকার সংক্রান্ত আইন কবে ঠিক ভাবে প্রণয়ন হবে দেশে? পশুপাখিদের উত্যক্ত করা, ওদের বিরক্ত করে মজা পাওয়ার মতো ঘটনা কিন্তু শুধু বাঁকুড়া জেলাতেই ঘটেনি। ইদানীং অসাম, ওড়িশা, তামিলনাড়ুতে প্রায়ই ঘটছে এমন ঘটনা। সব খবর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছোয় না। কারণ পশুদের যন্ত্রণা শিরোনামে আসে না।

ছোট্টো হস্তীশাবকের লেজে আগুন লাগিয়ে যে পৈশাচিক আনন্দ, তার ছবিটা তো খুব আরামদায়ক নয়। না হোক। চোখে আরাম না দিয়ে যন্ত্রণাই দিক। তাতে যদি চেতনা হয় আমাদের!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here