cooked food

পুনে: একেই কি বলে জাতের নামে বজ্জাতি?

জাত নিয়ে মিথ্যে বলেছেন। তাই রাঁধুনি নির্মলা দত্তাত্রেয় যাদবের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করলেন এখানকার ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল ড. মেধা বিনায়ক খোলে, যিনি জাতে ব্রাহ্মণ।  পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে ওই আবহাওয়া বিজ্ঞানী বলেছেন, তিনি যখন রাঁধুনির জাত কী জানতে চেয়েছিলেন, তখন রাঁধুনি তাঁকে গালিগালাজ করেছেন।

আর নির্মলা তাঁর বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি তাঁর জাত লুকোননি এবং তাঁর বৈবাহিক অবস্থা সম্পর্কেও কিছু মিথ্যা বলেননি। এবং নির্মলাও ওই বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে পালটা অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ড. মেধা পুলিশকে বলেন, তাঁর বাবা-মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী, গৌরী গণপতি উৎসব প্রভৃতি পারিবারিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলিতে এক জন রাঁধুনির দরকার ছিল। তিনি এক জন সধবা ব্রাহ্মণ রাঁধুনি চেয়েছিলেন। ২০১৬ সালে নির্মলা কুলকার্নি নামে এক মহিলা ড. মেধার কাছে রাঁধুনির কাজ চাইতে এসেছিলেন। তিনি পারিবারিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলিতে রান্না করার কাজে বহাল হন।

এক বছর পর গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় এক পুরোহিত বিজ্ঞানীকে জানান, ওই মহিলা ব্রাহ্মণ নন। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করার জন্য ড. মেধা ধয়ারিতে নির্মলার বাড়িতে যান। গিয়ে জানতে পারেন নির্মলা ‘কুলকার্নি’ নন, ‘যাদব’। এবং তিনি কুমারী। এ ব্যাপারে নির্মলাকে প্রশ্ন করতেই তিনি গালিগালাজ করতে থাকেন।

ড. মেধা বলেছেন, নির্মলার ‘মিথ্যা’ তাঁর ধর্মীয় ভাবাবেগকে আহত করেছে। সিংহাগড় রোড থানায় নির্মলার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪১৯ (জালিয়াতি), ৩৫২ (নিগ্রহ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ) এবং ৫০৪ (শান্তি ভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তিকে অপমান করা) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ও দিকে নির্মলা বলেন, “৬ তারিখ খোলে আমার বাড়িতে এসে আমাকে গালিগালাজ করতে থাকেন। আমি নাকি জাত নিয়ে মিথ্যা বলেছি, তাঁর ভগবান কলুষিত হয়েছেন। আমাকে তাঁর ব্যাগ দিয়ে মাথায় মারেন। তিনি পুলিশ ডাকেন। কিছুক্ষণ পর মারা বাড়িতে পুলিশ আসে। তিনি পুলিশের সামনেও চিৎকার করছিলেন। পরের দিন পুলিশ চৌকিতে যাই। সেখানেও খোলে চিৎকার করছিলেন। পুলিশ তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি পুলিশের কাছে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। আমিও পালটা অভিযোগ দায়ের করেছি।”

খোলের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৩ (স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ভাবে আহত করা), ৫০৬ (অপরাধমূলক ভয় দেখানো) এবং ৫৮৪ (ইচ্ছাকৃত ভাবে অপমান) ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ।

বিধবা নির্মলা দত্তাত্রেয় যাদব তাঁর পুত্রসন্তানকে নিয়ে থাকেন ওয়াড়গাঁও ধয়ারিতে এক ভাড়া বাড়িতে থাকেন। নির্মলা বলেছেন, “আমি কাজের জন্য কখনও খোলের কাছে যাইনি। তিনিই আমার খোঁজ করে এসেছিলেন। আমি আমার পদবি ‘কুলকার্নি’ বলিনি, ‘যাদব’ই বলেছিলাম। তিনি আমার জাত, বৈবাহিক অবস্থা নিয়ে কিছুই জিজ্ঞাসা না করেই তাঁর বাড়ির ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আমাকে রাঁধুনির কাজে বহাল করেন। আমি তিনটি অনুষ্ঠানে কাজ করেছি। শেষ কাজ করেছি গণেশোৎসবে। এখনও কোনো পয়সাকড়ি দেননি। যখনই টাকার কথা বলি, তখনই নানা বাহানা দেন। আট হাজার টাকা পাওনা হয়েছে। একটা টাকাও ঠেকাননি। বড়ো সরকারি অফিসার বলে তাঁকে বিশ্বাস করেছিলাম।”

অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার জ্যোতি গড়করি জানান, তাঁরা দুজনের অভিযোগ নিয়েই তদন্ত করছেন।

এ দিকে অখিল ভারতীয় ব্রাহ্মণ মহাসভা যারা প্রথমে খোলের এফআইআর-কে সমর্থন জানিয়েছিল, তারা এক বিবৃতি জারি করে খোলেকে অভিযোগ তুলে নিতে বলেছেন। তাঁদের বক্তব্য ‘সওয়ালা’র মতো প্রথার সঙ্গে জাতপাতের কোনো সম্পর্ক নেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here