sridevi modi

বিশেষ প্রতিনিধি: গত রবিবার ময়দানে নেমেছিলেন রাজ্যসভা সাংসদ অমর সিংহ। শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে তৈরি হওয়া গণঅনুসন্ধিৎসুতায় আরও একটু ধোঁয়াশা সংযোজনে তিনি দাবি করেছিলেন, মৃত নায়িকা কোনো দিনই মদ্যপান করতেন না।

অমরের এ ধরনের দাবির পক্ষে জোরাল যুক্তি রয়েছে। কারণ শ্রীদেবী যে বিবাহ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুবাই গিয়েছিলেন, সেখানে হাজির হয়েছিলেন তিনিও।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পরই বিজেপির সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর মুখেও সেই একই কথা। আবার অভিনেত্রীর মৃত্যুর সঙ্গে যে দাউদের হাত রয়েছে, তা তিনি অতীত-দ্রষ্টা জ্যোতিষীর মতো দেখতে পেয়েছেন। এ ভাবেই শোক প্রকাশের রাস্তা পুরোনো হতেই একে একে রাজনীতিকরা নামছেন মতপ্রকাশের প্রতিযোগিতায়। এর নেপথ্যে কী রয়েছে অন্য কোনো কারণ?

রাজনীতির কারবারিরা বলেছেন, আলবাত রয়েছে। অন্তত বিজেপি নেতা স্বামীর মুখে ঘুরেফিরে আসা দাউদ ইব্রাহিমের নাম এক দিকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ককে খুঁচিয়ে তোলা এবং অন্য দিকে সেই ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে আপাতত নীরব মোদী কাণ্ডে তৈরি হওয়া মানুষের আতঙ্কের আগুনকে ছাই চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। কী সেই আতঙ্ক?

নীরব মোদী দিয়ে শুরু হওয়া একের পর এক ব্যাঙ্ক তছরুপ কাণ্ডের ফলে সারা দেশের মানুষের মনে দানা বেঁধেছে ব্যাঙ্ক সম্পর্কে জোরালো অবিশ্বাসের বাতারবণ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, এমন কথাও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে। আবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির পরিচালক রিজার্ভ ব্যাঙ্কও যে তার অনুসারী ব্যাঙ্কগুলির অন্দর কি বাত-এ নাক গলাবে না, সে কথাও জোর গলায় বলেছে আরবিআই। ফলে রইল পড়ে কে? ব্যাঙ্কের কর্তারা। তাঁদের মধ্যে আবার এমন কিছু কর্তা আছেন, যাঁরা বিজয় মালিয়া, নীরব মোদী, বিক্রম কোঠারি-সহ দেশের বিজনেস টাইকুনদের সহৃদয় ভাবে সাধারণ মানুষের অর্থ তুলে দেন, কিন্তু স্ব-স্বার্থে ভুলে যান তা আদায়ের কথা।

স্বাভাবিক ভাবেই পিএনবি-কাণ্ডের পর যখন সারা দেশ জুড়ে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ গ্রাহকের বিশ্বাস তলানিতে গিয়ে ঠেকার উপক্রম, তখন শ্রীদেবীর মতো অভিনেত্রীর মৃত্যু কিছুটা হলেও মলমের কাজ করছে অবিশ্বাসের দগদগে ক্ষতের উপশমে। এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেও স্বামীর মতো নেতারাও হয়তো প্রচেষ্টা জারি রাখবেন। সবে তো দাউদ এসেছে, এর পর আসবে পাকিস্তান-সহ আরও অনেক নামই। যা ভুলিয়ে দিতে পারে, নীরব মোদীর ৬,৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার করার পর বকেয়া আরও প্রায় আট হাজার কোটি টাকা ইডি ফেরাতে পারল কিনা!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here