রাজীব ধাওয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে বার কাউন্সিলে হিন্দু মহাসভা

0
rajeev dhavan
রাজীব ধাওয়ান। ফাইল ছবি

ওয়েবডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টে অযোধ্যার রাম মন্দির-বাবরি মসজিদ মামলার দৈনিক শুনানির ৪০তম দিনে ‘আদালতের অসন্তুষ্টি’ নিয়ে আসার অভিযোগে প্রবীণ আইনজীবী রাজীব ধাওয়ানের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিলে গেল হিন্দু মহাসভা। রাজীব এই মামলায় সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড-সহ অন্যান্য মুসলিম আবেদনকারীদের প্রতিনিধিত্ব করেন রাজীব।

একটি বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত খবর অনুযায়ী, হিন্দু মহাসভা দাবি করেছে শীর্ষ ‘আদালতের অসন্তুষ্টি তৈরি করেছেন’ রাজীব।

ওই সংবাদ মাধ্যম একটি চিঠি্কে সামনে রেখে জানায়, হিন্দু মহাসভা অভিযোগে বলেছে, “এ ধরনের আচরণ এক জন প্রবীণ আইনজীবীর পক্ষে অযৌক্তিক, বিশেষত যখন তিনি একটি সিভিল আপিল নং ১০৮৬৬/১০-এর অধীনে কোনো পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন। পেশাদার নৈতিকতার উচ্চমান বজায় রাখার জন্য বারের সিনিয়র সদস্যের প্রত্যাশা রয়েছে”।

কী ঘটেছিল গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি চলাকালীন?

বুধবার এই মামলার শুনানি চলাকালীন সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড-সহ মুসলিম আবেদনকারীদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রবীণ আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান ‘রাম জন্মস্থান’-এর চিত্রাবলির মানচিত্র ছিঁড়ে ফেলেন বলে জানা যায়।

ধাওয়ান বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, “এটি ছিঁড়ে ফেলার জন্য কি আমি অনুমতি পেতে পারি?”

অযোধ্যার বিতর্কিত জমির মালিকানা দাবি করার পক্ষে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি পাবলিকেশনের প্রকাশিত আইপিএস অফিসার কিশোর কুনালের বইকে নথি হিসাবে পেশ করেন সর্বভারতীয় হিন্দু মহাসভার আইনজীবী বিকাশ সিং। তার পরই এই নাটকীয় মুহূর্তের অবতারণা হয়।

ধাওয়ান বইটিকে ছিঁড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের এই বইয়ের উপর নির্ভর করা উচিত নয়”। কারণ বইটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।

ধাওয়ানের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ জবাব দেন, “আপনি যা চান, তাই করুন”।

এর পরই গগৈ বলেন, “আপনি এটিকে আরও ছিন্ন করতে পারেন”।

বইয়ের কয়েকটি পৃষ্ঠা ছিঁড়ে যাওয়ার পরে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। যা দেখে ক্ষুব্ধ হন প্রধান বিচারপতি। তিনি রাগত স্বরে বলেন, “সাজসজ্জা নষ্ট হয়ে গিয়েছে, সাজসজ্জা রক্ষণ করা হয় না। যদি এই পদ্ধতিতে কার্যক্রম চলতে থাকে তবে আমরা শুধু মাত্র উঠে দাঁড়াব”।

এর পরে ধাওয়ান শীর্ষ আদালতের বিচারকের কাছে অভিযোগ করেন, “আমি কাগজপত্র ছিঁড়ে দিচ্ছি, এমন খবর ভাইরাল হচ্ছে”।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আমি এটিকে ফেলে দিতে চেয়েছিলাম। প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, আমি এটি ছিঁড়ে ফেলতে পারি”।

ধাওয়ানের কথা শুনে বিচারপতি এস এ নাজির বলেন, “ছিঁড়ে ফেলার খবর ভাইরাল হচ্ছে। আমরা এটা দেখেছি”।

আরও একটি উল্লেখযোগ্য যুক্তি আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ধাওয়ান হিন্দি আবেদনকারীদের আইনজীবী পি এন মিশ্রার যুক্তিকে “বোকা” বলে বর্ণনা করেছিলেন।

ধাওয়ান তাঁকে বলেন, “মি. মিশ্রার যুক্তি বোকামির নামান্তর। দয়া করে বসুন। তিনি জানেন না। এটি ব্যক্তিগত নয়”।

উত্তরে পি এন মিশ্রা বলেন, “আমি ভূমি আইনের উপর একটি বই লিখেছি এবং পিএইচডি পেয়েছি …”।

প্রত্যুত্তরে ধাওয়ান বলেন, “আমি তাঁর বইকে সালাম করতে পারি”।

তবে বিচারপতি গগৈ বলেছেন, “প্রধান বিচারপতিই তাঁকে (ধাওয়ানকে) কাগজ ছিঁড়ে ফেলার অনুমতি দিয়েছিলেন, আইনজীবী এমন একটি ব্যাখ্যা দিতে পারেন”।

এই রাজনৈতিক ভাবে সংবেদনশীল মামলার দৈনিক শুনানি শেষ হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। তবে শীর্ষ আদালত তার রায়দান স্থগিত রেখেছে। প্রধান বিচারপতি এ দিন বিকেল ৪টের সময় জানান, ২৩ দিন বাদে এই মামলার রায় ঘোষণা হবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.