karnataka elections kumaraswami

ওয়েবডেস্ক: কর্নাটক নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হল। বুথফেরত সমীক্ষাকে সত্যি প্রমাণিত করে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে পারল না, যদিও বিজেপির আসনসংখ্যা সব থেকে বেশি। অর্থাৎ কর্নাটক এখন ত্রিশঙ্কু।

গোয়া এবং মণিপুরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সে জন্য এখন আগেভাগেই ঝাঁপিয়ে পড়েছে কংগ্রেস। জেডিএসকে সমর্থনের ঘোষণা করে দিয়েছে তারা। সেই সঙ্গে জেডিএস নেতা কুমারস্বামীকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসার আহ্বানও করেছে তারা। কংগ্রেসের এই সমর্থন গ্রহণ করেছে জেডিএসও। এখন সব নজর রাজভবনের দিকে।

ঠিক এ রকমই ত্রিশঙ্কু বিধানসভা হয়েছিল ২০০৪-এ। সে বারও একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয়েছিল বিজেপি। কিন্তু তারা জিতেছিল ৭৯টা আসন। অন্য দিকে কংগ্রেস ৬৫ এবং জেডিএস ৫৮টা আসন জিতেছিল।

কর্নাটকের ঐতিহ্য হল শাসক দলকে সব সময়ে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে এই রাজ্য। কিন্তু ২০০৪-এ হল পরিবর্তন। রাজ্য হল ত্রিশঙ্কু। সেই সঙ্গে দক্ষিণে প্রভাব বিস্তার শুরু করল বিজেপি। কিন্তু কেউই যখন সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়নি, তখন কিংমেকারের ভূমিকায় নামতে হল জেডিএসকে।

২০০৪-এর নির্বাচনের আগে জেডিএস-প্রধান এইচডি দেবগৌড়া বারবার বলছিলেন তিনি কংগ্রেস বা বিজেপি কাউকেই সমর্থন করবেন না। কিন্তু নিজের এই অবস্থান থেকে সরে এলেন ফল প্রকাশের ১৫ দিনের মাথায়।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দু’সপ্তাহ ধরে দেবগৌড়ার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যান কর্নাটক বিধানসভায় কংগ্রেসের দলনেতা এন ধরম সিংহ। এ দিকে সনিয়া গান্ধীর বন্ধু হিসেবে পরিচিত দেবগৌড়া জানিয়ে দেন ‘সাম্প্রদায়িক দলকে’ দূরে সরিয়ে রাখা বেশি জরুরি।

এ দিকে হাল ছাড়েনি বিজেপিও। জেডিএসের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলার জন্য অরুণ জেটলিকে কর্নাটকে পাঠায় তার দল। তবে তাতে বিশেষ চিঁড়ে ভেজেনি। বিজেপিকে দূরে সরিয়ে রাখার ব্যাপারে একমত হয় কংগ্রেস এবং জেডিএস। স্বরাষ্ট্র, বিদ্যুৎ এবং অর্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক জেডিএসকে দিতে রাজি হয়ে যায় কংগ্রেস।

তৎকালীন জেডিএস নেতা সিদ্দারামাইয়াকে উপমুখ্যমন্ত্রিত্ব দিয়ে ২০০৪-এর ২৮ মে শপথ নেয় কর্নাটকের জোট সরকার।

কিন্তু এই সুসম্পর্ক বেশি দিন ছিল না। পরবর্তী কুড়ি মাসে সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। এর মূল কারণ জেডিএসের সঙ্গে জোট না করেই একের পর স্থানীয় নির্বাচন জিততে শুরু করে কংগ্রেস। এ দিকে ধরম সিংহের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব। অন্য দিকে সিদ্দারামাইয়াকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয় জেডিএস। এর ফলে এই প্রথম সিদ্দারামাইয়ার সঙ্গে দেবগৌড়ার সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে।

২০০৬-এর জানুয়ারিতে দেবগৌড়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ভেঙে দিয়ে বিজেপিকে ডেকে নেন তাঁর ছেলে এইচডি কুমারস্বামী। তাঁর বক্তব্য ছিল কংগ্রেস জোটধর্ম পালন করছে না। ছেলের এই সিদ্ধান্তে চরম আঘাত পেয়েছিলেন দেবগৌড়া। বিজেপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারেননি তিনি। তাই তিনি দলের জাতীয় সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেন। নতুন সরকারের মেয়াদ ছিল ৪০ মাস। তাই জেডিএস এবং বিজেপি দু’দলই ২০ মাস করে মুখ্যমন্ত্রিত্বের পদটি পাওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়।

২০০৬-এর ফেব্রুয়ারিতে বিজেপির ইয়েদুরাপ্পাকে উপমুখ্যমন্ত্রী করে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন কুমারস্বামী। কিন্তু এই জোটও বেশি দিন চলতে পারেনি। এর কারণ ক্ষমতালোভী কুমারস্বামী। ২০ মাসের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার ব্যাপারে সম্মত হলেও, ২০০৭-এর অক্টোবরে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি হননি দেবগৌড়ার ছেলে। এর ফলে কিছু দিনের মধ্যে কর্নাটক মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন বিজেপির ১৮ জন মন্ত্রী। পাঁচ বছরের জন্য সরকার নির্বাচিত হলেও তার আগেই ভেঙে যায় সরকার।

এর পরে ২০০৮-এ নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কর্নাটকে। সেই নির্বাচনে বৃহত্তম দল হয়ে এবং দু’জন নির্দল বিধায়কের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়ে বিজেপি।

অর্থাৎ কুমারাস্বামীকে নিয়ে চলা যে খুব সুবিধার নয়, সেটা বিলক্ষণ বুঝতে পারছে কংগ্রেস। কিন্তু লক্ষ্য যখন ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’কে দূরে সরিয়ে রাখা, তখন এই ‘রিস্ক’ নিতে কোনো ভিন্নমত নেই কংগ্রেসের অন্দরে। এখন দেখার কোন পথে এগোয় কর্নাটকের নতুন রাজ্য রাজনীতি।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here