গৃহহীন, তাই স্বচ্ছ ভারত অভিযানে তৈরি পায়খানাতেই বাস ওড়িশার আদিবাসী পরিবারের

0
413

ভুবনেশ্বর : ঘরবাড়ি নেই। অন্য বছর এই বর্ষার দিনগুলিতে পলিথিন সিটের নীচে অথবা অন্য কারো জরাজীর্ণ ঘরেই কাটাতে হত দিনমজুর ডাকতার নায়েককে। তবে স্বচ্ছ ভারত অভিযানের কল্যাণে কিছুটা ‘সুদিনের’ মুখ দেখেছে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ কেওনঝড় জেলার বাসিন্দা ডাকতার। মাথার উপর পেয়েছে পাকা ছাদ।  অভিযানের টাকা তৈরি পায়খানায় পুরো পরিবার নিয়ে আছে সে।

পরিবার বলতে তার মেয়ে আর স্ত্রী। ওড়িশার স্থানীয় একটি সংবাদপত্র ‘সম্বাদ’ ছবি-সহ এই খবর প্রকাশ করেছে। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পায়খানার দরজায় বসে রয়েছে ডাকতার। অন্য ছবিতে পায়খার প্যানের ঠিক পাশে শুয়ে রয়েছে তার মেয়ে।

জেলার ইচিন্দা গ্রামের ভূবনসাহীতে ৪০টি আদিবাসী পরিবারের বাস। দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী ওই পরিবারগুলির কেউই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় (আগের ইন্দিরা আবাস যোজনায়) ঘর পায়নি।

এলাকায় আধিবাসী উন্নয়নের লক্ষ্যে খনি ও খনিজসম্পদ সংশোধনী আইনে তৈরি হয় জেলা মিনারেল ফাউন্ডেশন। কিন্তু আদিবাসী উন্নয়ন যে তিমিরে ছিল থেকে গিয়েছে সেই তিমিরেই। হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতি বছর খনিজ সংস্থাগুলির ৮০০ কোটি টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ ছিল। কিন্তু সে সব থেকে গিয়েছে খাতায়-কলমে।

সংবাদপত্রটিকে নায়েক জানিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে পরিবার নিয়ে সে এই পায়খানাতেই দিন কাটায়। তার স্ত্রী নন্দিনী পায়খানার বাইরে রান্না করে। সামনের জঙ্গলে তারা মলত্যাগ করে।

২০০৯ সালে কেওনঝড় জেলা সংবাদ-শিরোনামে আসে। অভিযোগ ওঠে লিজহোল্ডাররা আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেদার লৌহ আকরিক ও ম্যাগানিজ চুরি করছে। এই চুরির তদন্তে বিচারপতি এমডি শাহের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হয়। সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় কমিশন। তার পর সেই প্রক্রিয়া কত দূর এগোল, কেউ খোঁজ নেয়নি, না রাজ্য না কেন্দ্র।

সংবাদপত্রটি তার প্রতিবেদনে জানিয়েছে উন্নয়নের ছিঁটেফোঁটা পৌঁছোয়নি ওই গ্রাম। এখনও গ্রামবাসীদের দূষিত বাতাস নিয়ে এবং দূষিত জল খেয়েই দিন কাটাতে হয়।

ছবি সৌজন্যে: সম্বাদ

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here