jubilation in kolkata.
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে খুশির জোয়ার। কলকাতায় অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস-এর সামনে। ছবি রাজীব বসু।

ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা খারিজ করে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল সমকামিতা কোনো অপরাধ নয়। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চের চার বিচারপতি এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে এই রায় ঘোষণা করে শীর্ষ আদালত। প্রায় দেড়শো পুরোনো এই বিতর্কিত আইন খারিজ হয়ে যাওয়ার ফলে সমকামীদের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হল। শীর্ষ আদালতের এ দিনের রায়ের ফলে ২০১৩ সালে তাদেরই দেওয়া এই সংক্রান্ত একটি রায় খারিজ হয়ে গেল। এ দিন রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, সমকামী যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ করে ব্রিটিশ আমলে যে আইন তৈরি হয়েছিল তা ‘স্বৈরাচারী এবং অযৌক্তিক’।

শীর্ষ আদালত তার রায়ে বলে, সমকামিতা কোনো মানসিক অসুস্থতা নয়। এটা খুব স্বাভাবিক একটা অবস্থা। দু’ জন সাবালক মানুষ যখন উভয়ের সম্মতিতে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয় তখন সেটা হয় ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে সমাজের নাক গলানোর কোনো অধিকার নেই।

আরও পড়ুন সমকামিতা মেনে নিন, সব কিছু চেপে রাখা ভুল পথ, বলল সুপ্রিম কোর্ট

রায় দিতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র বলেন, “নিজের স্বরূপ রক্ষা করাই জীবনের পিরামিড। আমি যা আমি তা-ই। আমাকে সেই ভাবে গ্রহণ করুন। কোনো ব্যক্তিই তাঁর ব্যক্তিসত্তা থেকে বেরোতে পারেন না।” তিনি বলেন, কুসংস্কারকে বিদায় জানাতে হবে। সমস্ত নাগরিকের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

এই বিতর্কিত আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন বিখ্যাত ভরতনাট্যম শিল্পী নবতেজ সিং জোহার, সাংবাদিক সুনীল মেহরা, প্রখ্যাত রন্ধনশিল্পী ও রেস্তোরাঁ মালিক রিতু ডালমিয়া, নিমরানা হোটেল চেলের সহযোগী প্রতিষ্ঠাতা আমন নাথ এবং ব্যবসায়ী আয়েশা কপুর।

সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়ের পরে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপির কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্মরণ করা যেতে পারে, সমকামিতাকে অস্বাভাবিক ব্যাপার বলে  কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ ২০১৩ সালে প্রকাশ্যেই ৩৭৭ ধারা সমর্থন করেছিলেন।

সুপ্রিম কোর্ট এই রায় ঘোষণা করার পর বহু জায়গাতেই শুরু হয়ে যায় আনন্দ-উৎসব। তেমনই একটি জায়গা দিল্লির ললিত হোটেল।

 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন