মুম্বই: চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেশ এখনও মেটেনি। আবাসিক ছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভের বাঁধ ভেঙেছিল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। এ বার সেই ঘটনার পর দিনই কতকটা একই ধরনের অভিযোগ উঠল ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বোম্বে (IIT Bombay)-তে। এখানে অভিযোগের নিশানায় ক্যান্টিন কর্মী।

আইআইটি বোম্বের এক আবাসিক পড়ুয়া পওয়াই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে। তাঁর অভিযোগ, আইআইটি বোম্বে-র একজন ক্যান্টিন কর্মী রবিবার রাতে ১০ নম্বর হোস্টেলের বাথরুমে গোপনে তাঁর একটি ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। ওই পড়ুয়া এবং কয়েকজন প্রতিনিধি ওই রাতেই থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান। অভিযোগ পেয়ে ৩৫৪সি ধারার অধীনে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করেছে পুলিশ।

কী বলছে পুলিশ

পওয়াই থানার সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর বুধন সাওয়ন্ত জানিয়েছেন, “ক্যান্টিন কর্মীর বিরুদ্ধে আইপিসি ধারা ৩৫৪সি-র অধীনে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। এফআইআর দায়েরের পর রবিবার রাতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে আটক করা হয়েছে।”

কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নারীকে ব্যক্তিগত কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিস্থিতিতে দেখেন বা ছবি তোলেন, তা হলে তা এই ধারায় শাস্তিযোগ্য। এর জন্য তিন বছরের কারাবাস এবং জরিমানাও হতে পারে। দ্বিতীয় বার একই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে কারাবাসের মেয়াদ সাত বছর পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে।

পাইপ বেয়ে জানলায়?

[বিক্ষোভ চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে}

বাথরুমের জানালার স্লিট দিয়ে কেউ তাঁর ভিডিও রেকর্ড করছে দেখে ওই পড়ুয়া সতর্ক হয়ে যান। তিনি হস্টেল কাউন্সিল এবং আইআইটি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। তৎক্ষণাৎ, ক্যান্টিন কর্মীদের ফোন করেন কর্তৃপক্ষ। কর্মীরা কে কোথায় রয়েছে, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হয়।

মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাইপ দিয়ে উঠেই ওই বাথরুমের জানালায় পৌঁছাতে পারেন অভিযুক্ত। কারণ, ওই পাইপগুলি বিল্ডিংয়ের নীচতলা পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে এ ব্যাপারে যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আইআইটি বোম্বে-র ডিন অধ্যাপক তপনেন্দু কুণ্ডু বলেন, “প্রতিষ্ঠানের তরফে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷। বাইরের এলাকা থেকে বাথরুমে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওই হস্টেল পরিদর্শনের পরে প্রয়োজনীয় জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা এবং আলো লাগানো হয়েছে।”

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন