‘কেউ এত নিষ্ঠুর কী করে হতে পারে’, বিস্মিত গণপ্রহারে মৃত জুনায়েদের বাবা

0
355

বল্লভগড় (হরিয়ানা) ইসলাম ধর্মগ্রন্থ কোরান কেউ যদি পুরোটা মুখস্থ করতে পারেন তা হলে তিনি ‘হাফিজ’ উপাধি লাভ করেন। তিন বছর কঠোর চেষ্টার পরে গত বুধবারই ‘হাফিজ’ উপাধি লাভ করেছিল জুনায়েদ এবং হাশিম। পুরস্কার হিসেবে মায়ের থেকে পনেরোশো টাকা করে পেয়েছিল দুই ভাই।

‘হাফিজ’ হওয়ার পর এটিই ছিল তাদের প্রথম ঈদ। তাই ভালো জামা কাপড় কেনার জন্য দিল্লিতে গিয়েছিল তারা, সঙ্গে ছিল তাদের আরও দুই তুতো ভাই। বাড়িতে বলে গিয়েছিল, কেনাকাটির পরে জামা মসজিদ ঘুরে সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসবে দু’জনে। এক জন যদিও ফিরল আর একজনের ফেরা হল না।

ট্রেনে বাড়ি ফেরার সময়ে সহযাত্রীদের সঙ্গে বচসা শুরু হয়। তাদের উদ্দেশে গালাগালি দেওয়া শুরু হয়। তার পর চলে ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ। কিন্তু গোটা ঘটনাটা শুধু মুখেই সীমাবদ্ধ থাকে না, হাতেও গড়ায়। শুরু হয় বেধড়ক পিটুনি। শেষ পর্যন্ত আসাবতি স্টেশনে ট্রেন দাঁড়ালে তাদের ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়। চার জনই জখম হয়। কিন্তু এদের মধ্যে ১৬ বছরের জুনায়েদ হাসপাতালে মারা যায়।

জুনায়েদের বাবা জালালউদ্দিন বলেন, “ঈদের দিন ‘হাফিজ’ উপাধিতে ভূষিত হবে, এই নিয়ে খুব আনন্দে ছিল জুনায়েদ। রমজান মাস শুরু হওয়ার সময় থেকেই প্রতিদিন মসজিদে গিয়েছে, কোরান পড়ত দু’জনে। তারা চেয়েছিল ঈদের দিন নতুন জামা কাপড়ে সাজবে, তাই দিল্লিতে গিয়েছিল কেনাকাটা করতে। ওদের মা বলেছিল সিমাই এবং মিষ্টি কিনে আনার জন্য। ওরা বলে গিয়েছিল, সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরে আসবে, কিন্তু একজনের মৃতদেহ বাড়ি ফিরল। কেউ এত নিষ্ঠুর কী করে হতে পারে!” আক্ষেপ তাঁর। তিনি আরও বলেন, “জুনায়েদ ছোটো ছেলে, মাত্র ষোলো বছর বয়স। কেউ আমাদের এ রকম ভাবে ঘৃণা কী ভাবে করতে পারে যাতে ওকে এরকম ভাবে চলে যেতে হল।”

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ছেলে হারানোর কথা জুনায়েদের মা সাইরাকে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, “গ্রামের প্রতিবেশীরা সকাল থেকে আসছিল জুনায়েদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে। কিন্তু আমি তখনও কিছুই জানতাম না। জুনায়েদের বাবা আমাকে কিছুই জানায়নি। সকালে যখন ওর দেহ বাড়িতে এল তখনই পুরোটা জানলাম।”

তিনি যে আর কোনো দিনও ঈদ পালন করতে পারবেন না। সাইরা বলেন, “এবারের ঈদটা আমাদের কাছে বিশেষ ব্যাপার ছিল। আমার দুই ছেলে ‘হাফিজ’ উপাধি লাভ করেছে। কিন্তু তার পরের দিনই আমি ওকে হারালাম। এর পেছনে কী যুক্তি রয়েছে”, কান্নাভেজা গলায় বলেন সদ্য সন্তান হারানো মা।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here