ওয়েবডেস্ক: কথায় বলে ‘রক্ষণের সেরা অস্ত্র আগ্রাসন।’ সম্ভবত এই নীতি মেনেই মোদীর বিরুদ্ধে আক্রমণের কৌশল এখন সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছে কংগ্রেস। লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে তত বেশি করে নজরে পড়ছে এই বদলে যাওয়া কৌশল।

শেষ দু’টি রাজনৈতিক বক্তৃতায় মোট ৬৫ মিনিট কথা বলেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। এর মধ্যে ৯৯ বার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম উল্লেখ করে তাঁকে আক্রমণ করেছেন তিনি। খুবই ভাবনাচিন্তার পরে নিজেদের কৌশলে বদল এনেছেন রাহুল এবং তাঁর দলবল, এমনই মনে করছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। এক বছর আগেও কংগ্রেসকে এতটা আগ্রাসী হতে দেখা যায়নি। মোদীর বিরুদ্ধে ঝাঁঝালো আক্রমণও বিশেষ শোনা যেত না রাহুলের মুখে।

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে ‘মোদী বনাম গান্ধী’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে কংগ্রেস। ঠিক এই ব্যাপারটাই এ যাবৎকাল এড়িয়ে যেত তারা। এর পাশাপাশি বারবার দুর্নীতির অভিযোগে শাসককে সমানে বিদ্ধ করতে চাইছে দেশের প্রধান বিরোধী দল। ২০১৪ সালে ‘দুর্নীতি’ মন্ত্রেই কংগ্রেসকে ধূলিসাৎ করে ‘মোদী সুনামি’ দেখেছিল ভারত।

দিল্লিতে তাঁর শেষ দু’টি জনসভায় রাহুল গান্ধী নরেন্দ্র মোদীকে বিভিন্ন অভিযোগে বারবার বিঁধেছেন। ২৩ এপ্রিল টালকাটোরা স্টেডিয়ামে ‘সংবিধান বাঁচাও’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন রাহুল। ওই সভায় তিরিশ মিনিটের বক্তৃতায় ৪৭ বার মোদীর নাম উল্লেখ করেন রাহুল। দুর্নীতির অভিযোগ, দলিত-মহিলা-সংখ্যালঘুদের ওপরে আক্রমণের অভিযোগে কেন মোদী কিছু বলেন না এই ব্যাপারেই বারবার মোদীকে আক্রমণ করেন তিনি।

এর ছ’দিন পরে রামলীলা মাঠে ‘জন আক্রোশ’ সভা করেন রাহুল। সেখানে ৩৫ মিনিটের বক্তৃতায় মোদীর নাম উল্লেখ করেন ৫২ বার। উন্নাও এবং কাথুয়া ধর্ষণ, ডোকলাম, দুর্নীতি নিয়ে মোদীকে বিঁধতে থাকেন কংগ্রেস সভাপতি।

কংগ্রেস নেতাদের মতে, এখন সব কিছুতেই মোদীকে দায়ী করতেই হবে। কারণ বিজেপির ‘সর্বেসর্বা’ এখন তিনিই। মোদীর শক্তির কাছে দল হিসেবে বিজেপি এখন ‘অপ্রয়োজনীয়’ হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালার মতে, “দেশের মানুষের ব্যথাবেদনার কথা তুলে ধরা প্রধান বিরোধী নেতার কর্তব্য। এই সরকারের দুর্নীতি ফাঁস করা এখন প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব। বিজেপি দলটা এখন মোদীর হাতে পুরোপুরি। মোদীই দলের শুরু, মোদীই দলের শেষ। সেই সঙ্গে সব কিছুতেই মোদীকে দায়ী করতে হবে। সেই কারণেই রাহুল এখন এতটা আগ্রাসী হয়ে গিয়েছেন।”

রাজস্থানের কংগ্রেস প্রধান সচিন পাইলট, রাহুলের এই ভূমিকার সমর্থক। তিনি বলেন, “একজন বিরোধী নেতার কাছে দেশ যেটা চায়, সেটাই করছেন রাহুল।”

কয়েক বছর আগে পর্যন্তও মোদীকে ব্যক্তিগত ভাবে আক্রমণে যেত না কংগ্রেস। উলটে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে গিয়ে আদতে মোদীই লাভবান হয়ে গিয়েছিলেন। ২০০৭-এ গুজরাত নির্বাচনের প্রচারে এসে মোদীকে ‘মৃত্যুর দূত’ আখ্যা দেন তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধী। ২০০২-এর গুজরাত দাঙ্গার কথা তুলে এ রকম ভাবে আক্রমণ করলেও আখেরে লাভ হয় মোদীর। বিধানসভায় কার্যত পর্যুদস্ত হয় কংগ্রেস। তার পর থেকেই মোদীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকার কৌশল নেয় কংগ্রেস।

এই বদলে যাওয়া কৌশল থেকে কংগ্রেস আরও একটা জিনিস বুঝিয়ে দিতে চায়। যতই ২০১৯-এর নির্বাচনের আগে বিরোধী শক্তিদের ঐক্যবদ্ধ করার ডাক দিক কংগ্রেস, যতই রাহুলে আপত্তি থাকুক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও বেশ কিছু নেতার, কংগ্রেস বুঝিয়ে দিতে চায় মোদীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হবেন রাহুলই।

২০১৯-এর ভোট হবে ‘মোদী বনাম রাহুল।’

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here