cyclone naming
আয়লার তাণ্ডবের পর কলকাতা। ছবি: টাইমস অফ ইন্ডিয়া
শ্রয়ণ সেন

বৃষ্টি এবং মনোরম আবহাওয়ার জন্য দক্ষিণবঙ্গের কাছে কার্যত হিরোর মর্যাদা পেয়েছে ‘দায়ে’। এর জন্যই গত কয়েক দিনের দুঃসহ গরম থেকে মুক্তি পাওয়া গিয়েছে। ‘দায়ে’ হিরোর মর্যাদা পেলেও ‘আয়লা’ কিন্তু ছিল ভিলেন। ‘আয়লা’র দাপটে তছনছ হয়ে গিয়েছিল সুন্দরবন। মৃত্যু হয় অসংখ্য মানুষের। ‘আয়লা’র রোষ থেকে যাঁরা বেঁচে যান, প্রবল জলোচ্ছ্বাসের ফলে গৃহহীন হয়ে পড়েন তারা।

কলকাতারও রূপ বদলে দিয়েছিল ‘আয়লা’। ২০০৯-এর ২৫ মে আছড়ে পড়া এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কলকাতা স্তব্ধ হয়ে যায়। জায়গায় জায়গায় পড়ে যায় গাছ। অনেক দিন বিদ্যুৎহীন থাকে অনেক এলাকা। আবার কলকাতার কাছে ভিলেন ‘ফাইলিন’ও। ২০১৩-য় গোপালপুরে আছড়ে পড়া অতি প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি নামে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে। তাতে মাটি হয়ে যায় অষ্টমী, নবমীর আনন্দ।

‘আয়লা’, ‘ফাইলিন’ এবং এখনকার ‘দায়ে’। এইগুলো সব এক একটা ঘূর্ণিঝড়ের নাম। কখনও ভেবে দেখেছেন কী ভাবে নামকরণ করা হয়েছে এই ঘূর্ণিঝড়গুলির? আসুন এই ব্যাপারটা জেনে নিই।

ফাইলিনের তাণ্ডবের পর গোপালপুর। ছবি: এএফপি

টাইফুন, সাইক্লোন, হারিকেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন রকম নাম। কিন্তু চরিত্র একই। সামুদ্রিক ঝড়। উত্তর আতলান্তিক, উত্তর এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়গুলিকে বলে হারিকেন। অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পড়শি দেশে যে ঝড় আছড়ে পড়ে সেগুলি হারিকেন। উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলে টাইফুন। অর্থাৎ চিন-জাপান এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আছড়ে পড়ে টাইফুন। অন্য দিকে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলে সাইক্লোন।

যা-ই হোক, এই সামুদ্রিক ঝড়গুলিকে নামকরণের চিন্তাভাবনা ২০০০ সালে মাথায় আসে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এবং ইউনাইটেড নেশনস ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক (এস্কাপ)। মানুষের মধ্যে ঝড়ের ব্যাপারে সতর্কতা আরও ভালো ভাবে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পনা।

আরও পড়ুন গোপালপুরে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় ‘দায়ে’, দক্ষিণবঙ্গে প্রবল বৃষ্টি

বিশ্বের সব প্রান্তেই যেমন ঘূর্ণিঝড়গুলির নামকরণ হয়, তেমন ভাবেই নিজেদের মতো করে এই ঘূর্ণিঝড়গুলির নাম দিচ্ছে উত্তর ভারত মহাসাগর অবস্থিত আটটি দেশ। ২০০৪ থেকে এই ব্যবস্থা তৈরি হয়।

২০০৪-এ প্রথম নামাঙ্কিত ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় উত্তর ভারত মহাসাগরে। ‘অনিল’ নামক এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দিয়েছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পরে ভারত, মলদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড, নিজেদের মতো ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেছে। এই আটটি দেশ, আটটা করে নাম দিয়ে ৬৪টি নামের একটা সেট তৈরি করে দিয়েছে।

হুডহুডের হামলায় বিশাখাপত্তনম।

‘দায়ে’ নামটি দিয়েছে মায়ানমার। ঠিক যেমন ‘আয়লা’ নামটি দিয়েছিল মলদ্বীপ। ‘ফাইলিন’ নাম দিয়েছিল থাইল্যান্ড। এই সেটে ভারত যে আটটি নাম দিয়ে রেখেছে সেগুলি হল, অগ্নি, আকাশ, বিজলি, জল, লেহর, মেঘ, সাগর, বায়ু। এর মধ্যে বায়ু ছাড়া সবই তৈরি হয়ে গিয়েছে। ঠিক তেমনই বাংলাদেশ যে আটটি নাম দিয়ে রেখেছে সেগুলি হল অনিল, অগ্নি, নিশা, গিরি, হেলেন, চপলা, অক্ষি, গিরি। এর মধ্যেই গিরি ছাড়া সব ঘূর্ণিঝড়ই কোথাও না কোথাও আছড়ে পড়েছে। গত ডিসেম্বরে গুজরাত উপকূলে আছড়ে হামলা চালিয়েছিল অক্ষি।

যে ৬৪টা নাম দেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে ‘দায়ে’ হল ৫২তম ঘূর্ণিঝড়। এই তালিকা অনুযায়ী এখনও ১২টা নামাঙ্কিত ঘূর্ণিঝড় তৈরি হবে উত্তর ভারত মহাসাগরে। এর পর যে ঝড়টি তৈরি হবে তার নাম লুবান। নাম দিয়েছে ওমান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন