kulbhushan yadav mother and wife

নয়াদিল্লি:  কুলভূষণ যাদবের সঙ্গে তাঁর মা ও স্ত্রীর সাক্ষাতের দু’দিন পর আজ সংসদে কড়া ভাষায় পাকিস্তানের নিন্দা করলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তিনি বলেন, বিগত ২২ মাস পর সন্তানের সঙ্গে দেখা হওয়া এক মা এবং স্বামীকে মুখোমুখি দেখা এক স্ত্রীর আবেগঘন মুহূর্তকে অসৎ উদ্দেশে ব্যবহার করছে পাকিস্তান।

সুষমা বলেন, ‘আমি সংসদকে এই বিষয়ে অবগত করাতে চাই যে গুপ্তচর বৃত্তির মিথ্যা অভিযোগ এনে পাকিস্তান কুলভূষণ যাদবকে বন্দি করে রেখেছে। গত ২৫ ডিসেম্বর সরকারি ভাবে তাঁর মা ও স্ত্রীকে সে দেশে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছিল পাকিস্তান।

২০১৭-এর এপ্রিলে আমি বলেছিলাম, কুলভূষণের মুক্তির জন্য আমাদের যাবতীয় পদক্ষেপ আমরা নেব। পরবর্তীতে আমরা বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়েছিলাম। পাকিস্তানের সামরিক আদালতে কুলভূষণের নিরাপত্তার বিষয়টি তখন সুরক্ষিত হয়। এর পর আমারা পাকাপাকি ভাবে তাঁর মুক্তির আবেদন জানানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছি।পাশাপাশি তাঁর পরিবারের এই দুসময়ে সর্বদা পাশে থাকছি।’

কুলভূষণের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সাক্ষাতের জন্য দীর্ঘ দিন ধরেই আবেদন জানানো হচ্ছিল পাকিস্তানের কাছে। এ মাসে তারা সেই আবেদন মঞ্জুর করে। কিন্তু সাক্ষাতের বিষয়ে যে সমস্ত চুক্তি দু’দেশের মধ্যে হয়েছিল, তা সঠিক ভাবে পালন করেনি পাকিস্তান।

প্রথমত, চুক্তিতে ছিল, সাক্ষাতের সময় কোনো সংবাদ মাধ্যমকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। কার্যত তার উল্টোটাই হয়েছে। অসংখ্য সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের হাতে হেনস্থা হতে হয়েছে তাঁর মা ও স্ত্রী-কে। যা দেখে মনে হয়েছে এর পুরোটাই পূর্বপরিকল্পিত।

দ্বিতীয়ত, সাক্ষাতের আগে কুলভূষণের মা ও স্ত্রীকে পোশাক-সহ যাবতীয় সাজসজ্জা পরিবর্তন করতে হয়েছে। তাঁর মায়ের পরিধানে ছিল শাড়ি। কিন্তু দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে সালওয়ার পরতে বাধ্য করেন। খুলে নেওয়া হয় স্ত্রী কপালের টিপ, চুড়ি-বালা-মঙ্গল সূত্র।

তৃতীয়ত, পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাই কমিশনারের তত্ত্বাবধানে তাঁর মা ও স্ত্রীকে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হলেও তাঁদের উভয়কে পৃথক দরজা দিয়ে প্রবেশ করানো হয়েছে। এবং ওই সাজ-পোশাকের পরিবর্তন হয়েছে ডেপুটি হাই কমিশনারের অলক্ষ্যেই।

চতুর্থত, তাঁদের জন্য যে গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল তার সময় বিলম্বিত করা হয়েছে জেনেবুঝেই। যাতে তাঁরা সংবাদ মাধ্যমের কাছে ‘খবর’ হয়ে উঠতে পারেন।

অবশেষে যে বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তান ঘৃণ্য রাজনীতি করে যাচ্ছে, সেই জুতো প্রসঙ্গ। সাক্ষাতের আগেই কুলভূষণের মা ও স্ত্রীর জুতো কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের পরতে দেওয়া হয়েছিল চটি জুতো। তাঁরা যে জুতো পরে গিয়েছিলেন তা আর ফেরত দেয়নি পাকিস্তান। উল্টে নজর ঘোরাতে প্রচার করা হচ্ছে, ওই জুতোয় তারা ধাতব কিছু পেয়েছে। এমনকী তা পরীক্ষার জন্য ফরেন্সিক ল্যাবেও পাঠানো হয়েছে।

স্বাভাবিক ভাবে বন্দি কুলভূষণের সঙ্গে তাঁর মা ও স্ত্রীর সাক্ষাতের সুযোগ করে দিয়ে যে পাকিস্তান নিজেদের মানবতার কথা প্রচারে নেমেছে, তার পুরোটাই মেকি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here