ওয়েবডেস্ক: কে কতটা জাতীয়তাবাদী কিংবা দেশপ্রেমী, তা হিসেব করার জন্য দেশের মানুষই তৈরি করছে নিত্য নতুন নির্ণায়ক মাপকাঠি। কখনও বা দেশের নাগরিকদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সেই প্রতিযোগিতায় শামিল করছে সরকার। সংস্কৃতির জগতেও বইছে একই রকম অস্বস্তিকর পরিবেশ। তার সাম্প্রতিক নিদর্শন, বাছা বাছা কিছু বাদ্যযন্ত্রে কেন্দ্র থেকে বসানো হল ২৮% কর। হ্যাঁ, গাল ভরা নামও রয়েছে তার। পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি)। এখন প্রশ্ন হল, বাছা বাছা যন্ত্রেই কেন এই কর? কেন্দ্রের যুক্তি ভায়োলিন, পিয়ানো, গিটারের মতো বাদ্যযন্ত্র আসলে ‘বিদেশি’।

কেন্দ্র থেকে তৈরি করা হয়েছে ১৩৪টি ‘ভারতীয়’ বাদ্যযন্ত্রের একটি লম্বা তালিকা। এর মধ্যে বেশ কিছু ( প্রায় ৬০ শতাংশ) বাদ্যযন্ত্র গত দু’ শতকে ভারতীয় সঙ্গীতে ব্যবহার করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে যথেষ্ট সংশয়ের অবকাশ থেকে যায়। একমাত্র তালিকায় উল্লেখ থাকা যন্ত্রের ক্ষেত্রেই কর মকুব করা হবে, এমনই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের।

সঙ্গীতজ্ঞদের অধিকাংশের মতেই সঙ্গীত জগতে এমন ‘দেশি’ ‘বিদেশি’ শ্রেণিবিভাগ করা সমীচীন নয়। বিদেশি বহু বাদ্যযন্ত্রই কয়েকশো বছর ধরে ভারতীয় সঙ্গীতে ব্যবহৃত হতে হতে ভারতীয় যন্ত্রসঙ্গীতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ভায়োলিন বা বেহালার ব্যবহার আমাদের দেশের সঙ্গীতের সে রকমই এক ট্র্যাডিশন। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতীয় সঙ্গীতে। দক্ষিণী  সংস্কৃতিকে ভারতীয় মূলধারার সংস্কৃতি থেকে আলাদা রাখার ইতিহাস অবশ্য সাম্প্রতিক নয়। ভারতের ওই অঞ্চলের সংস্কৃতিকে প্রান্তিক করে রাখার চেষ্টা হয়ে এসেছে বহু আগে থেকেই।

‘বিদেশি’ যন্ত্রে জিএসটি বসানোর ফলে টান পড়ছে বহু শিল্পীর রুজি রোজগারেও। আমাদের দেশে শিল্পীসমাজের বেশির ভাগই কিন্তু মধ্যবিত্ত ঘরের। সেখানে এক একটি বাদ্যযন্ত্রের ওপর ২৮ % অতিরিক্ত কর বসলে ঘরে ঘরে তা কেনার এবং বাজানোর প্রচলন নিঃসন্দেহে কমবে। এ ভাবে সেই সব বাদ্যযন্ত্র এবং ক্রমে তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটা আস্ত সংস্কৃতিই হারিয়ে যাবে দেশের মাটি থেকে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন