afrajul khan

ওয়েবডেস্ক: আগে ছিল হুমকি, এখন তা পরিণত হয়েছে প্রলোভনে। এমন ফোনের ও প্রান্তে রয়েছে কে বা কারা?

রাজস্থানে কাজ করতে গিয়ে নিহত মালদহের আফরাজুল খানের পরিবারের কাছে দিন কয়েক ধরেই উড়ো ফোন আসছিল। বলা হচ্ছিল, খুনি শম্ভুলাল রেগরের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে হবে। নচেৎ ভয়ানক বিপদ অপেক্ষা করে রয়েছে। কোনো কোনো ফোনে স্পষ্টতই হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, রাজস্থানে গিয়ে মামলা লড়ার পরিণতি মোটেই ভালো হবে না। এবার তারই সঙ্গে যুক্ত হল নতুন এক প্রলোভন ফোন।

ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিহতের পরিবারকে তিন লক্ষ টাকা আর্থিক সহযোগিতা এবং পরিবারের এক জন যোগ্যকে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। অন্য দিকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজেও আফরাজুলের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। চার দিকে যখন এত টাকার প্রতিশ্রুতি তখন আর হাত গুটিয়ে বসে থাকছে না হত্যাকারীর শুভানুধ্যায়ীরাও।

সম্প্রতি আফরাজুলের পরিবারের পক্ষে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের স্পেশাল কমিটি সদস্য অসিত বসু জাতীয় মানবধিকার কমিশনের কাছে একটি পিটিশন দাখিল করেন। সেখানে তিনি বলেছেন, মৃতের পরিবার চাইছে রাজস্থান থেকে ওই মামলা বাংলায় স্থানান্তরিত করা হোক। কারণ ভিন রাজ্যে তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার চরম সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েক দিন ধরেই উড়ো ফোনে ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল। এ বার বলা হচ্ছে, মামলা তুলে নিতে। তার জন্য কত টাকা লাগবে, তাও জানতে চাওয়া হচ্ছে।

রাজস্থান পুলিশ আফরাজুলের পরিবারকে কতটা নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হবে, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অসিতবাবুর দাবি, অতীতে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে মামলা স্থানান্তরের নজির এ দেশে রয়েছে। বেস্ট বেকারি মামলা গুজরাত থেকে বোম্বে হাইকোর্টে স্থানান্তর করা হয়েছিল। ফলে এ ক্ষেত্রেও সমস্ত দিক বিবেচনা করে অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

কয়েক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল খুনি শম্ভুলালের স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে কেউ বা কারা টাকা জমা করছে। এমনকী গত কাল শম্ভুলালের সপক্ষে চাঁদা তোলা এবং মিটিং সংগঠিত করার অপরাধে পুলিশ বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতারও করেছে। এদের মধ্যেই লুকিয়ে নেই তো আফরাজুলের পরিবারকে হুমকি এবং প্রলোভন দেওয়া কোনো ব্যক্তি?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here