ওয়েবডেস্ক: গত শনিবার নরেন্দ্র মোদী সরকারের চার বছর পূরণ নিয়ে প্রশংসা এবং সমালোচনার মৃদুমন্দ হাওয়া বইল দেশ জুড়ে। সেখান থেকেই উঠে এল, গত চার বছরে ঠিক কী কী কারণে ক্রমাগত যেন কংগ্রেসের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তুলে ধরা হল তেমনই দু’টি বহু আলোচ্য বিষয়।

মোদী দেশকে আর্থিক ভাবে চাঙ্গা করার হরেক উপায় বাতলেছেন। দেশের জিডিপি বাড়ানোর নেশা পেয়ে বসেছে যেন তাঁকে। উল্টোদিকে মূদ্রাস্ফীতি, ব্যাঙ্কের অনুৎপাদক সম্পদ বা দ্রব্যমূল্য হু-হু করে বাড়তে থাকলেও সরকারি উদাসীনতা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। শেষ ১৪ দিন ধরে টানা বেড়ে চলেছে জ্বালানি তেলের দাম। প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাতের’ জন্য অপেক্ষা করে আছেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু মন্ত্রকের দ্বিতীয় ব্যক্তি প্রচার করছেন, সারা বিশ্বের মধ্যে মোদীই সব থেকে পরিশ্রমী প্রধানমন্ত্রী। কারণ তিনি সারা বিশ্ব চষে বেড়াচ্ছেন।

এই বিষয়টিকেই কংগ্রেস মূলত রাহুল গান্ধী অভিহিত করেছেন ‘সু‌ট-বুটের সরকার’ হিসাবে। কংগ্রেস গরিবের দুর্দশা নিয়ে ভাবতে বলছে বিজেপি সরকারকে। আর মোদী হয়তো চাইছেন, তিনি দেশের আর্থিক ভিতকে এমন জায়গায় নিয়ে যাবেন, যখন চাষির হাতেও পর্যাপ্ত হবে সুট-বুট কেনার টাকা!

তাঁর দ্বিতীয় বড়ো ভুল অবশ্যই বিজেপির হিন্দুত্ববাদের জিগিরকে প্রশ্রয় দেওয়া। তাঁর শাসনকালেই গো-রক্ষার নামে বেশ কয়েকজন মুসলমানকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখা বা তদন্ত পক্রিয়া যে ভাবে চলার সেভাবেই চলেছে। কিন্তু সারা দেশে এ নিয়ে বিতর্কের চরম আবহ চাগাড় দিয়ে উঠলেও মোদী কিন্তু নীরবই থেকেছেন। এই হাতে গোনা কয়েক সপ্তাহ আগেই দলিত সম্প্রদায়ের উপর আঘাত নেমে এসেছে। পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে দায়ী করা হয়েছে বিজেপি-কে। সে ক্ষেত্রেও মোদী নীরব। তাঁর এই নীরবতা এবং সাধারণ মানুষের সার্বিক অংশের সঙ্গে সম্পর্কহীন এমন কয়েকটি ইস্যুতে অতি-সরব হওয়া, কীসের ইঙ্গিত। এ কথা তো মিথ্যে নয়, এ দেশের জনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা। ফলে তাঁদের উদ্দেশে যদি নিচুতলা থেকে ক্রমাগত পাকিস্তানে পাঠিয়ে চলে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়, ফল কি আদৌ ইতিবাচক হতে পারে?

কিন্তু এমন গভীর প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে কংগ্রেসের সঙ্গে পাকিস্তান যোগ নিয়ে বারবার প্রচারে আসছেন মোদীর পার্ষদরা। তাতে কি মুসলমান সম্প্রদায় কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন না?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here