ওয়েবডেস্ক: সাজা পেয়েছেন প্রায় আট মাস হয়ে গেল। জেলের জীবনের সঙ্গে ক্রমে মানিয়ে নিচ্ছেন ডেরা সাচ্চা সৌদার প্রধান তথা স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংহ। সেই সঙ্গে জেলজীবনে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন তাঁর একদা ছায়াসঙ্গী তথা তাঁর পালিতা কন্যা হানিপ্রীত সিংহ।

আগস্ট থেকে রোহতকের সুনারিয়া জেলে রয়েছেন রাম রহিম, অন্য দিকে অক্টোবর থেকে হানিপ্রীতের ঠাঁই হয়েছে অম্বালা সেন্ট্রাল জেলে। দুই মহিলাকে ধর্ষণের জন্য কুড়ি বছরের জেল হয়েছে রাম রহিমের আর তাঁর সাজা ঘোষণার দিন হরিয়ানার পাঞ্চকুলায় হিংসায় ইন্ধন জোগানোর জন্য কারাবাস করছেন হানিপ্রীত।

প্রথম দিকে জেলের খাবারে অনিহা ছিল হানিপ্রীতের। কিন্তু এখন সেটাই খাচ্ছেন তিনি। প্রথম দিকে এমনও অভিযোগ উঠেছে যে হানিপ্রীতের জন্য জেলের বাইরে থেকে ভালো ভালো খাবার নিয়ে আসা হচ্ছে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে এই ব্যাপারে হইচই হওয়ায় সেই বিতর্কের এখন অবসান হয়েছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জেলের এক সূত্র বলেন, “হানিপ্রীত দাবি করেন তিনি নাকি খুব ধার্মিক। অথচ জেলে যখন ভজন এবং কীর্তন হয় তিনি সেগুলি এড়িয়ে চলেন। জেলের বাকি কারও সঙ্গেও বিশেষ কথা বলেন না তিনি। শুধুমাত্র বাড়ির লোকেরা দেখা করতে এলে তাঁদের সঙ্গেই কথাবার্তা বলেন।”

হানিপ্রীত যে হেতু এখনও বিচারাধীন, তাই নিজের পছন্দের পোশাক পরতে পারেন তিনি। আদালতে শুনানির দিন ডিজাইনার স্যুইট পরেন তিনি।

এ বার আসা যাক রাম রহিমের কথায়। জেলে খুব শৃঙ্খলাপরায়ণ হয়ে গিয়েছেন তিনি। তাঁর ব্যবহারও এখন খুব ভালো হয়েছে। কুড়ি টাকার মজুরিতে জেলে কাজ করছেন তিনি। মূলত চাষবাসের কাজ করছেন তিনি। ফল-সবজি ফলাচ্ছেন তিনি।

রাম রহিম এখন আসামী। তাই শুধুমাত্র জেলের পোশাকই পরতে পারেন তিনি। সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি। তাঁর দাড়িতে এখন বৃদ্ধত্বের ছাপ। কিছু দিন আগেই মা, স্ত্রী এবং ছেলের সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি।

প্রতি মাসে রাম রহিমের অ্যাকাউন্টে ৫,০০০ টাকা ভরে দিচ্ছে জেল কর্তৃপক্ষ। এই টাকায় জেল ক্যান্টিন থেকে ফল, শিঙাড়া এবং আরও জলখাবার কিনছেন তিনি।

ধর্ষণের মামলার পাশাপাশি রাম রহিমের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগও রয়েছে। সেই মামলায় দু’জন আইনজীবী তনবীর আহমেদ মির এবং ধ্রুব গুপ্তাকে নিয়োগ করেছেন ডেরা। উল্লেখ্য, আরুশি হত্যা মামলায় তলবারদের আইনজীবীও ছিলেন এই দু’জন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন