বিজ্ঞানকে ভর করে কী ভাবে সবরিমালায় প্রবেশ করেছিলেন ২ মহিলা, জানলে শিউরে উঠবেন

আদালতের রায়ের পর বিন্দু ও কনকদুর্গা ঠিক করেছিলেন যে করেই হোক তাঁরা মন্দিরে প্রবেশ করবেন।

0
sabrimala

ওয়েবডেস্ক: ভগবান দশর্নের অধিকার আদায়ে হাতিয়ার বিজ্ঞান। প্রবল বাধাকে চোখ এড়িয়ে বিজ্ঞানে ভর করে বৃহস্পতিবার সবরিমালায় পৌঁছে গিয়েছিলেন কেরলের দুই মহিলা, বিন্দু এবং কনকদুর্গা। প্রতিবাদের নজর এড়িয়ে শুক্রবার আরও এক মহিলা মন্দিরে প্রবেশ করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের রায় সত্ত্বেও সবরিমালার মহিলাদের প্রবেশ রুখতে তীব্র প্রতিবাদ চলছে। সেই প্রতিবাদ উপেক্ষা করে অনেক মহিলাই সেখানে ঢোকার চেষ্টা করছেন। ১৭ ডিসেম্বর চারজন রূপান্তকামী সেখানে প্রবেশে চেষ্টা করেন, কিন্তু তাদেরকে সেখানে আটকে রাখা হয়। সে সব সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার সবরিমালায় ঢুকে পড়লেন বিন্দু এবং কনকদুর্গা। কী ভাবে? বিজ্ঞানের কোন নিয়ম মেনে?

এ কাজে তাঁদের সাহায্য করেছে মনোবিজ্ঞান আর এক দল সহমর্মী মানুষের নেটওয়ার্ক।

‘অদৃশ্য গোরিলার’ চলাফেরা

আদালতের রায়ের পর বিন্দু ও কনকদুর্গা ঠিক করেছিলেন যে করেই হোক তাঁরা মন্দিরে প্রবেশ করবেন। বিষয়টি নিয়ে অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করতে করতে ঠিক করেন মনোবিজ্ঞানের সাহায্য নিয়েই তাঁরা মন্দিরে প্রবেশ করবেন। ফেসবুকেই তাঁদের সঙ্গে সমমনস্ক মানুষের পরিচয় হয়। সবরিমালায় প্রবেশের সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন তৃতীয় ব্যক্তি মনস্তত্ত্ববিদ প্রসাদ আমোর। একটি ফেসবুক পেজে তিনজনের সঙ্গে পরিচয় হয় যে পেজটি চালান বায়ো-মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও সমাজকর্মী শ্রেয়স করনন। তাঁরাই একত্রে আলোচনা করে পুরো প্ল্যানটি করেন। বিষয়টি নিয়ে আরও জানার আগে এই ইউটিউব ভিডিওটি দেখুন।

আমোর জানিয়েছেন, তিনি এবং শ্রেয়স পরিকল্পনাটি নিয়ে আগে আলোচনা করেন। আগে থেকে তাকে কাউকে কিছু বলা হয়নি। রওনা দেওয়ার এক মিনিট আগে যদি একবার মিডিয়া জানতে পারে যে, কোনো মহিলা প্রবেশ করছে তবে সব ভেস্তে যাবে।

এই ইউটিউব ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে একদল মানুষ যখন খেতে ব্যস্ত তখন একটি গোরিলা দিব্যি সেই ভিড়ের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, কেউ তাকে নজর করছে না। কারণ সবার নজর রয়েছে বলটির দিকে।

আমোর জানিয়েছেন, ‘‘মনোবিজ্ঞানের এই নীতিটিকেই আমরা মেনে চলার চেষ্টা করি। আমরা খুব সাধারণ ভাবে ভিড়ের মধ্যে ঢুকে যাই। কারোও মাথায় আসেনি এই ভাবে মহিলারা ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়বে। তারা মনে করছিল পুলিশের সাহায্য নিয়েই মহিলারা ঢুকবে। তাই তারা অতটা নজর দেয়নি। এই দুই মহিলাও কোনো রকম অস্বাভাবিক আচারণ করেননি। তাঁরা কোনো ভাবে বুঝতেই দেননি। তারা যে কোনো রকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল। ফলে কেউ বুতেই পারেননি।’’

আমোর আরও জানিয়েছেন, ‘‘তাঁরা বয়স্ক মহিলাদের মতো শাড়ি পরেনি, বদলে তাঁরা চুড়িদার পড়েন।’’
তিনি জানিয়েছে,‘‘ মানুষের মস্তিষ্ক ‘পক্ষপাতদুষ্ট’। সে যখন নির্দিষ্ট কিছু দেখতে তার প্রতি সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করে। কারো যদি ‘অপরাধমূলক’ কাহিনির প্রতি আগ্রহ থাকে সে কাগজ খুলে সেগুলোই খোঁজে।’’ এই বিজ্ঞানকেই কাজে লাগিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন বিন্দু এবং কনকদুর্গা।

তাঁদের মন্দিরের প্রবেশর পর অনেকেই দাবি করছেন ভিআইপি প্রবেশ দ্বার দিয়ে তাঁরা মন্দিরে প্রবেশ করেছেন, কারো দাবি তাঁর অ্যাম্বুলেন্স করে প্রবেশ করেছেন। নিজেদের প্রবেশের প্রমাণ দিতে তাঁরা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here