amit shah and judge loya

নয়াদিল্লি: ভারতের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে নজিরবিহীন বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে গেল শুক্রবার। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন প্রবীণত্বের বিচারে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম স্থানে থাকা চার বিচারপতি। কিন্তু ঠিক কী কারণে এই বিদ্রোহ হল সে ব্যাপারে একটু আলোচনা করা যাক।

শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটায় একটি মামলার শুনানি শুরু হওয়ার কথা ছিল। ওই মামলাটি নিয়েই তার পনেরো মিনিট আগে অর্থাৎ ১০:১৫-এ প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের কাছে দরবার করেন ওই চার ‘বিদ্রোহী’ বিচারপতি। কিন্তু তাদের আবেদনে কান দেননি প্রধান বিচারপতি। তার পরেই সাংবাদিক সম্মেলনের ডাক দেন তাঁরা।

যে মামলা নিয়ে এত নজিরবিহীন বিদ্রোহ, সেই মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে এক বিচারপতির রহস্যজনক মৃত্যু। সেই মামলায় আবার নাম উঠেছে স্বয়ং বিজেপির সভাপতি অমিত শাহের। উল্লেখ্য, গুজরাত দাঙ্গার সময়ে সোহরাবুদ্দিন ভুয়ো সংঘর্ষ মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে নাম ছিল অমিত শাহের। সেই মামলার বিচারক লোয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তোলে তাঁর পরিবার। তদন্ত চেয়ে জনস্বার্থ মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র মামলাটি শুনানির দায়িত্ব দেন বিচারপতি অরুণ মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চকে।

এখানেই তৈরি হয় জটিলতা। প্রধান বিচারপতি এই মামলাটি শুনানির দায়িত্ব দেন অরুণ মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে। প্রবীণত্বের বিচারে যিনি দশ নম্বরে। এই ব্যাপারে দীপক মিশ্রের কাছে আপত্তি তোলেন ওই চার বিচারপতি। তাঁরা মনে করেন, এ রকম গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনার শুনানি আরও প্রবীণ কোনো বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে হওয়া উচিত।

তবে দীপক মিশ্র সরাসরি জানিয়ে দেন, তিনি ওই চার বিচারপতির আবেদনে সাড়া দেবেন না, কারণ কোন মামলা কোন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে যাবে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্তে নেওয়ার সম্পূর্ণ ক্ষমতা তাঁকে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাপারে গত বছরের নভেম্বরে একটি পাঁচ সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে হাতিয়ার করেন দীপক মিশ্র। সেই বেঞ্চের রায়ে বলা হয়েছে, কোনো মামলার কা বেঞ্চে যাবেন সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন প্রধান বিচারপতি।

তবে প্রধান বিচারপতির অফিস জানিয়ে দিয়েছে, দীপক মিশ্র কোনো ঐতিহ্য ভাঙেননি এবং তিনি নিজের পথেই চলবেন। নজিরবিহীন এই বিদ্রোহের পর ভারতের বিচারব্যবস্থা এখন কোন দিকে এগোয় সেটাই দেখার।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন