how modi won over kashmir
বাসে চড়ে লাহৌর পৌঁছলেন বাজপেয়ী, ১৯৯৯-এ। ছবি: পিটিআই

ওয়েবডেস্ক: ২০০৩-এর আগস্টে তাঁর একটা ভাষণই কাশ্মীরিদের মনে স্মরণীয় হয়ে গিয়েছে। পাকিস্তানের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে তিনি বলেছিলেন বন্দুক দিয়ে কখনোই কোনো সমাধানসূত্র বেরোয় না। বাজপেয়ীর এই বার্তা যথেষ্ট ফলপ্রসূ হল। উপত্যকায় ক্রমশ কমতে শুরু করল জঙ্গিপনা।

নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সংঘর্ষবিরতি চুক্তি সই হল ২০০৩-এর নভেম্বরে। গত কয়েক বছরে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করা হলেও, তখন এই চুক্তিকে মান্যতা দেওয়া হত। দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য এবং বাস পরিষেবা চালু হল। ২০০৪-এর উপত্যকার বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন বাজপেয়ী।

আরও পড়ুন ২৭ বছর পর ফের এত বড়ো মাপের কোনো শেষকৃত্যের আয়োজন করছে দিল্লি পুলিশ

‘ইনসানিয়াত (মানবতা), কাশ্মীরিয়ত (কাশ্মীরি সংস্কৃতি) এবং জমহুরিয়ত (গণতন্ত্র)’-এর মধ্যে দিয়ে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন বাজপেয়ী। তাঁর এই পদক্ষেপ মূল স্রোতের রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি প্রশংসা কুড়িয়েছিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরও।

বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা আবদুল গনি ভাটের মতে, “কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে সব কিছুর ওপরে উঠে গিয়েছিলেন বাজপেয়ী।” ২০০৪-এ নির্বাচন না হেরে গেলে এখন কাশ্মীর সমস্যা বলে কিছু থাকত না বলেও মনে করেন ভাট।

আরও পড়ুন অটলবিহারী বাজপেয়ী – ফিরে দেখা

কাশ্মীর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ডিন নুর বাবা মনে করেন, কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনে কঠিন পথটাও নিতে রাজি ছিলেন বাজপেয়ী। তিনি বলেন, “বাজপেয়ী একটা ব্যাপার খুব ভালো ভাবে বুঝতেন। পাকিস্তানের সঙ্গে যে কোনো ভাবেই হোক শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।” ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও সেই প্রক্রিয়া থেকে বাজপেয়ী পিছিয়ে আসেননি বলে জানান বাবা। তাঁর কথায়, “১৯৯৯-এর লাহৌর বাস যাত্রার কয়েক মাসের মধ্যেই কার্গিল যুদ্ধ হল। কিন্তু তিনি আলোচনার পথ থেকে সরে আসেননি। এর পরে আগরা সামিটও ব্যর্থ হল, অবশ্য সেটা তাঁর জন্য নয়।” আগরা সামিট ব্যর্থ হওয়ার পেছনে মুশারফের দিকেই আঙুল তোলেন বাবা। বাবার মতে উপত্যকার মানুষ এখনও মনে করেন বাজপেয়ী ছিলেন সবার থেকে আলাদা।

আরও পড়ুন এক মাত্র অটলবিহারী বাজপেয়ীই অর্জন করেছিলেন এই কৃতিত্ব, যা ভারতে আর কারও নেই

পিডিপি নেতা ওয়াহিদ-উর-রহমনের কথায়, “কাশ্মীরিদের বাজপেয়ী বোঝাতে পেরেছিলেন যে উপত্যকার মালিক তাঁরাই। এ ভাবেই কাশ্মীরিদের মন জয় করেছিলেন তিনি।”

২০০০ সালের রমজান মাসে বাজপেয়ীর আমলেই প্রথম বার একতরফা ভাবে ভারত সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করেছিল বলে মনে করিয়ে দেন সিপিআইএমের কাশ্মীরের বিধায়ক মহম্মদ ইউসুফ তারিগামি। অন্য দিকে কংগ্রেস নেতা সৈফুদ্দিন সোজ বলেন, “বিজেপি নেতা হওয়া সত্ত্বেও কাশ্মীরের মানুষজন তাঁকে ভালোবেসেছিল।”

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন