Telengana home minister
তেলঙ্গানার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ওয়েবডেস্ক: পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় গোটা দেশে যখন নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে, তখন আলটপকা মন্তব্য করে বিতর্কের ঝড় তুললেন তেলঙ্গানার এক মন্ত্রী। এমন মন্তব্য, যেন মনে হয় ধর্ষিত হয়ে খুন হলেন যে মহিলা, তিনিই যেন তাঁর পরিণতির জন্য দায়ী।

ঘটনার সময় ওই মহিলা পুলিশের এমার্জেন্সি নম্বরে ফোন না করে তাঁর বোনকে ফোন করেন। এটি যে তাঁর বড়ো দোষ হয়েছে, সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন ওই মন্ত্রী।

গত বুধবার হায়দরাবাদ শহরতলির শামসাবাদে ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কে এক ফ্লাইওভারের নীচে চার দুষ্কৃতী এক মহিলা পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারে। ধর্ষিতা হওয়ার আগে ওই মহিলা তাঁর বোনকে ফোন করেছিলেন। মন্ত্রী বলেছেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক যে উনি বোনকে ফোন করলেন। তা না করে উনি ‘এমার্জেন্সি রেসপন্স নাম্বার ১০০’-য় ফোন করতে পারতেন।  

তেলঙ্গানার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহম্মদ মেহমুদ আলি বলেন, “গোটা ঘটনায় আমরা দুঃখিত। পুলিশ সব সময় সতর্ক রয়েছে, তারা অপরাধ দমন করছে। আমাদের পুলিশ ভারতের অন্যতম দক্ষ পুলিশ। কয়েক মাস আগে একটি শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। আপনারা ইতিহাস দেখুন। দু’ মাসের মধ্যে দুষ্কৃতীর ফাঁসির সাজা হয়েছে। এই ঘটনাতেও পুলিশ দ্রুত সক্রিয় হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েক জনকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। উনি তো শিক্ষিত। উনি বোনকে ফোন করলেন। উনি তো ১০০-য় ফোন করতে পারতেন। এটা দুর্ভাগ্যজনক উনি বোনকে ফোন করলেন, ১০০-য় করলেন না। ১০০-য় করলে ওঁকে বাঁচানো যেত।”

মন্ত্রী বলেন, ১০০ যে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ নম্বর, সেটা সম্পর্কে আমরা প্রচার করব। আপনি ১০০ ডায়াল করলে পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবে। ৩০ মিনিট উনি বোনকে ফোন করলেন, অন্তত একবার পুলিশকে ফোন করতে পারতেন। পুলিশ তখন ব্যবস্থা নিতে পারত। এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য পুলিশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেবে।”

আরও পড়ুন: হায়দরাবাদে সেই জায়গার কাছেই মিলল আরও এক মহিলার দগ্ধ দেহ

নাগরিকরা বলছেন, মন্ত্রী যা বলেছেন, তা হয়তো ঠিক। সাধারণ মানুষের এমার্জেন্সি রেসপন্স নম্বর সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত। কিন্তু প্রশ্ন হল, মন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য করার এটাই কি সময়? আর যে ভাষায় এই মন্তব্য তিনি করেছেন, তাতে তো মনে হচ্ছে যত দোষ ওই মহিলা চিকিৎসকের। ওই মহিলা শিক্ষিত ব্যক্তি বলে মন্ত্রী মন্তব্য করেছেন।

সংকটের সময় দুর্গত ব্যক্তি কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন তা নির্ভর করে তিনি কার ওপর ভরসা রাখেন, সেই মুহূর্তে তাঁর কাছে সব চেয়ে ভালো উপায় কোনটা। সাধারণের প্রশ্ন, জনগণ আর পুলিশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সরকার কি যথেষ্ট করছেন? মানুষ কি বিশ্বাস করে, তাদের বিপদ এলে পুলিশ সেই বিপদটা কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখে?

ওই মহিলা চিকিৎসকের মা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা যখন পুলিশে যান, পুলিশ খুব দুর্ব্যবহার করে। তারা বলতে থাকে, ওই মহিলা নিশ্চয় কারও সঙ্গে চলে গিয়েছেন। আমরা বলি আমাদের মেয়ে তেমন নয়। পুলিশ আমাদের কথা শোনে না। পুলিশের নিঃস্পৃহতার মেয়েকে হারালাম। তাদের যেটা করা উচিত ছিল, তারা সেটা করেনি।”

ওই মহিলা চিকিৎসকের বোন শুক্রবার বলেন, “আমরা বুঝি, পুলিশকে তদন্ত করার জন্য সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তারা একেবারে স্থিরনিশ্চিত ছিল যে আমার বোন কারও সঙ্গে স্বেচ্ছায় চলে গিয়েছে। গোটা ঘটনাটা গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি। ব্যাপারটাই ভুল।”

পুলিশের অবিবেচক দৃষ্টিভঙ্গির দিকে আঙুল তুলে, নিখোঁজ ডায়েরির পর যে সব পুলিশ কাজে নামেনি তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থার নেওয়ার কথা বলেছেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন রেখা শর্মা।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন