চার আর ছয় বছরের দুটো ফুটফুটে শিশু সেদিন বাবার কাছে বেধড়ক মার খেতে দেখেছিল তাদের  অসহায় মাকে। সাক্ষী ছিলেন ঠাকুরদা, ঠাকুমাও। এতটুকুও বাধা দেননি তাঁরা। মায়ের অপরাধ? জল গরম করার গিজার বন্ধ করা হয়নি।  অপমানে লজ্জায় ৩১ বছরের সুশ্রুতা কুঁকড়ে যেতে থাকে সেদিন। ঘটনার ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যেই সুশ্রুতার মা-বাবা তাঁদের মেয়ের কাছে পৌঁছলে, পরিবারের তরফে জানানো হয় তাঁদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

ঘটনাটা ঘটেছে হায়দরাবাদের এক পরিবারে। স্বামী মোহন রাও পেশায় তথ্যপ্রযুক্তি ইঞ্জিনিয়ার অর্থাৎ এক কথায় ‘শিক্ষিত’ বলতে যা বোঝায় তাই।  অথচ নিজের সন্তান, মা-বাবার সামনেই স্ত্রীকে স্নানঘর  থেকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে এনে আঘাত করতে কোথাও এতটুকু বাধেনি মোহনের। এই ঘটনার পরই মেয়ে সুশ্রুতার সাথে শেষবারের মতো কথা হয় বাবা সত্যনারায়ণের।

মেয়ের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মানতে চাইছেন না তাঁর মা-বাবা। পরিবারের আরেক সদস্য জানিয়েছেন, বিয়ের এত বছর পরেও পণের জন্য ঝামেলা হত মোহনের সাথে সুশ্রুতার। এর আগেও স্বামীর কাছে মার খেয়েছেন একাধিকবার। সত্যনারায়ণের দৃঢ় বিশ্বাস, তাঁর মেয়েকে খুন করা হয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হলে আপাতত মোহন এবং তাঁর বাবা মাকে আটক করা রাখা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here