তিরুঅনন্তপুরম: প্রখ্যাত চলচ্চিত্রশিল্পী কমল হাসন কি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে প্রবেশ করছেন? শুক্রবার তিরুঅনন্তপুরমে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এ রকমই একটা জল্পনা জোরদার হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতকে তিনি শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা’ বলে বর্ণনা করেন।

পিনারাই বিজয়নের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিরুঅনন্তপুরমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কমল হাসন বলেন, “রাজনীতিতে ঢোকা নিয়ে কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলাম, ওঁর পরামর্শ নিচ্ছিলাম। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমি আরও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে দেখা করব। আমি এখানে এসেছি তাঁর সরকারের এক বছর উদযাপন উপলক্ষে। এই সাক্ষাৎ আমার কাছে শেখার মতো একটা বিষয় হয়ে রইল। এখান থেকেই আমি শিখতে থাকব, বিভিন্ন জায়গায় যাব। আমাই আরও অনেক জায়গায় যাব আর শিখব।”

কিছু দিন আগে তিনি তাঁর ভক্তদের চেন্নাইয়ের ফোর্ট সেন্ট জর্জে অভিযান করার কথা বলেন। উল্লেখ্য, এই ফোর্ট সেন্ট জর্জেই আছে তামিলনাড়ুর বিধানসভা। তার পরেই শুক্রবার কমলের এই বিবৃতি। তিনি বলেন, “৪০ বছর ধরে এমি ফিল্মে রয়েছি। আমার অনেক রঙ আছে। তবে অবশ্যই গেরুয়া আমার রঙ নয়।”

একটি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য কমল হাসন তিরুঅনন্তপুরমে এসেছেন। শুক্রবার তিনি কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘ক্লিফ হাউস’-এ যান এবং সেখানে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সারেন। সাক্ষাৎকারের আগে সাংবাদিকরা কমলকে জিজ্ঞাসা করেন, তাঁরা রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করবেন কিনা। জবাবে কমল বলেন, “অবশ্যই।” মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে অবশ্য বৃহস্পতিবার এই সাক্ষাৎকারকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দেখাসাক্ষাৎ’ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

বিজয়ন সম্পর্কে কমল বলেন, “তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধার যথেষ্ট কারণ রয়েছে, এটা অন্ধ শ্রদ্ধা নয়। তাঁর পরিসংখ্যান দেখুন। তাঁর কাছে কী টাকা আছে, আর কী ভাবে তিনি চালান সেটা দেখুন। আপনাদের তো ওঁর জন্য গর্ব হওয়া উচিত। তিনি বাম, দক্ষিণ না মধ্যপন্থী, সেটা কোনো বিষয়ই নয়।”

পিনারাই বিজয়ন আর কমল হাসনের মধ্যে অনেক মিল আছে। দু’ জনেই যুক্তিবাদী, দু’ জনেই মনে করেন কে কী খাবেন সেটা তাঁর নিজস্ব ব্যাপার, এবং দু’ জনেই ধর্মের রাজনীতির বিরুদ্ধে। অতীতে দু’ জনেই একে অপরকে প্রশংসা করে বহু চিঠি লিখেছেন।

বেশ কিছু দিন ধরেই তামিলনাড়ুর এআইএডিএমকে সরকারের সমালোচনায় মুখ কমল হাসন। রাজ্যে দুর্নীতি নিয়ে বার বার টুইটারে সরব হয়েছেন, ডাক দিয়েছেন নতুন সরকার গড়ার।

 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here