ওয়েবডেস্ক: দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে মুখ খুলতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি, শুরুটা করলেন এ ভাবেই। দেশের অর্থনীতির ভয়াবহ অবস্থা নিয়ে জমতে থাকা ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা যশবন্ত সিনহা। অর্থনীতির হাল ক্রমশ নিম্নমুখী হওয়ার জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী দু’জনকেই দুষলেন বাজপেয়ী জমানার বিজেপির অর্থমন্ত্রী।

বুধবার প্রকাশিত হওয়া ইন্ডিয়ান এক্সপ্রসের সাক্ষাৎকারে প্রবীণ নেতা জানিয়েছেন, “ভারতের অর্থনীতিতে অর্থমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে অনেকেই আমার সঙ্গে সহমত পোষণ করেন, কেবল ভয় পেয়ে মুখ খুলছেন না তাঁরা। বর্তমান অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থনীতির যা হাল করেছেন, তার বিরুদ্ধে মুখ খোলাটা আমার দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, “মোদী নিজে দাবি করেন তিনি দারিদ্রকে কাছ থেকে দেখেছেন। এই সরকারের অর্থমন্ত্রী চাইছেন দেশের প্রতিটা মানুষ দারিদ্রকে কাছ থেকে দেখুক”।

বিজেপির নেতৃত্বে রদবদল হওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন উঠেছিল, প্রবীণদের গুরুত্ব কমে এসেছে দলে। লালকৃষ্ণ আডবাণী, যশবন্ত সিনহার মতো নেতারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন এই সরকার গঠন হওয়ার পর থেকেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর সরাসরি মুখ খোলা থেকেই প্রমাণ হচ্ছে বিজেপিতে নবীন-প্রবীণ বিভেদ এখন তুঙ্গে।

বর্ষীয়ান নেতা জানিয়েছেন, সরকার নাকি মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন তথা জিডিপি হিসেব করার পদ্ধতিই পালটে ফেলেছে। আগের পদ্ধতিতে হিসেব করলে দেশের জিডিপি ৫.৭-এর জায়গায় ৩.৭ শতাংশ অথবা তারও কম হওয়া উচিত। তিনি আশঙ্কা করছেন, পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের আগে জিডিপি বৃদ্ধির হার বাড়া প্রায় অসম্ভব। গত নভেম্বরের বিমুদ্রাকরণ নীতির তীব্র সমালোচনা করে শ্রী সিংহ বলেন, ডিমনিটাইজেশনের অনেক আগে থেকেই অর্থনীতির গ্রাফ নীচে নামতে শুরু করেছিল। নোট বাতিল শুধু নতুন করে জ্বালানি জুগিয়েছিল। পণ্য ও পরিষেবা করও (জিএসটি) ভুল পদ্ধতিতেই প্রণয়ন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ।

যশবন্ত সিনহার মতামত জনসমক্ষে আসতেই যাঁরা সোচ্চার হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে প্রথমেই আছেন প্রাক্তন কংগ্রেস অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম। সিনহার উদ্ধৃতির অংশবিশেষ টুইট করে তিনি লিখেছেন, “সত্যি কথা বলছেন যশবন্ত”। দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের গলাতেও একই সুর।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন