বাধ সাধছে প্রকৃতি, বিমানের ধ্বংসাবশেষের কাছে পৌঁছতে বিশেষ ব্যবস্থা বায়ুসেনার

ধ্বংসাবশেষের কাছাকাছি যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টার থেকে গড়ুর কম্যান্ডোদের একটি দলকে নামাতে চলেছে বায়ুসেনা।

0

ওয়েবডেস্ক: আট দিন পর মঙ্গলবার বিকেলে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বায়ুসেনার এএন-৩২ বিমানটির ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মিলেছে। কিন্তু সেটা পেলে কী হবে, তার কাছে পৌঁছোতে তো হবে। সেটাই যে হচ্ছে না। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকার কারণে অরুণাচলের ওই অঞ্চলটিতে নামতে পারছে না হেলিকপ্টার। আবার গভীর জঙ্গল ভেদ করে সেখানে পৌঁছোতে পারছেন না সেনাবাহিনীর জওয়ানরাও। ফলে অন্য একটি ব্যবস্থা নিতে চলেছে বায়ুসেনা।

বিমানের ধ্বংসাবশেষের কাছাকাছি যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টার থেকে গড়ুর কম্যান্ডোদের একটি দলকে নামাতে চলেছে বায়ুসেনা। এই গরুড় কম্যান্ডোদের বৈশিষ্ট্য কী?

‘আক্রমণই হল বাঁচার মন্ত্র’, এই আদর্শেই অনুপ্রাণিত গরুড় কম্যান্ডো বাহিনী তৈরি হয় ২০০৪ সালে। এদের প্রশিক্ষণ এতটাই কঠিন যে, এক জন বায়ুসেনা জওয়ানের পুরোপুরি গরুড় কম্যান্ডো হতে অন্তত ৩ বছর সময় লাগে। অ্যান্টি-হাইজ্যাকিং থেকে শুরু করে প্যারাট্রুপিং, বরফের মধ্যে লড়াইয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নৌসেনার কম্যান্ডো বাহিনী থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর অ্যান্টি ইনসার্জেন্সি এবং জঙ্গল ওয়রফেয়ার স্কুলেও গরুড় কম্যান্ডোদের প্রশিক্ষণ দেওয়ানো হয়। ২০১৬-এর জানুয়ারিতে পাঠানকোট বায়ুসেনা ঘাঁটিতে জঙ্গিদের খতম করতে নামানো হয়েছিল গরুড় কম্যান্ডোদের। এই কম্যান্ডোদের ঘটনাস্থলে এয়ার‍ড্রপ করবে বায়ুসেনা।

আরও পড়ুন ‘অভিনন্দন’ বনাম ‘বাবা দিবস’, যখন খেলাকে ছাপিয়ে যায় জাতীয়তাবাদের জিগির

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের সোমবার অসমের জোরহাটে ১৩ জন যাত্রীকে নিয়ে বায়ুসেনার ওই এএন-৩২ বিমান হারিয়ে গিয়েছিল। বিমানটি নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর তল্লাশি অভিযানে নামে বায়ুসেনার সি-১৩০জে বিমান, সুখোই এসইউ-৩০, নৌসেনার পি ৮-আই বিমান। সাহায্য নেওয়া হয় ইসরোর উপগ্রহ চিত্র এবং ড্রোনের। রাতেও তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছিল গত কয়েক দিন ধরেই। সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং প্রতিকূল আবহাওয়া এই অভিযানে তাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু তার পরেও তল্লাশি অভিযান বন্ধ হয়নি। সেনার পাশাপাশি, অরুণাচলের সিইয়োমির শিকারিদেরও উদ্ধারকাজে লাগানো হয়। হারিয়ে যাওয়া বিমানের খোঁজ দিতে পারলে ৫ লক্ষ টাকা পুরস্কারের কথাও ঘোষণা করে বায়ুসেনা।

বিমানবাহিনী সূত্রে খবর, মঙ্গলবার অরুণাচল প্রদেশের ওই অঞ্চলে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল বায়ুসেনার এমআই-১৭ হেলিকপ্টার। তখনই বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পায় তারা। কিন্তু আবহাওয়া এতটাই প্রতিকূল যে সেখানে পৌঁছোনো কার্যত দুঃসাধ্য। সে কারণেই এই বিশেষ ব্যবস্থা নিতে চলেছে বায়ুসেনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here