kerala IAS
ত্রাণ শিবিরে গোপিনাথ। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

ওয়েবডেস্ক: নিজের পরিচয় গোপন রেখে আট দিন ধরে কেরলের বন্যাত্রাণের শিবিরে শিবিরে ঘুরে বেড়ালেন কানন গোপীনাথ। ত্রাণসামগ্রীর ভারী ভারী বস্তা নিজের মাথায় নিলেন, ট্রাক থেকে ত্রাণের জিনিসপত্র নামাতে সাহায্য করলেন। যখন জানা গেল তিনি একজন আইএএস আধিকারিক, তার দু’তিন দিন পরেই কোচি শহর ছাড়লেন তিনি।

গত ২৬ আগস্ট কেরলের পা রেখেছিলেন দাদরা ও নগর হাভেলির জেলাশাসক কেরল নিবাসী গোপীনাথ। এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের তরফ থেকে কেরলের বন্যাত্রাণে দেওয়া এক কোটি টাকার চেক কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার জন্যই এসেছিলেন তিনি। কিন্তু তার পরের আট দিন বন্যাত্রাণের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করে দেন তিনি।

তিরুঅনন্তপুরমে ত্রাণের চেক দেওয়ার পরেই সেখান থেকে বাস ধরেন তিনি। তাঁর ঘনিষ্ঠরা ভেবেছিলেন হয়তো নিজের বাড়ি পুথুপল্লিতে যাবেন তিনি। কিন্তু সেখানে না গিয়ে গোপীনাথ চলে গেলেন চেঙ্গানুর। কেরলের বন্যার সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এই চেঙ্গানুর শহর।

আরও পড়ুন বিমানবন্দর থেকে সোজা মাঝেরহাটে মুখ্যমন্ত্রী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২

পরের কয়েক দিন নিজের পরিচয় গোপন রেখে দিব্য ত্রাণের কাজে লেগে পড়েছিলেন গোপীনাথ। ত্রাণশিবির থেকেত্রাণ শিবির চষে বেড়িয়েছেন তিনি। দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনই একটা ত্রাণশিবিরে কাজ করার সময়ে তাঁর এক সময়ের সহকর্মী তাঁকে দেখে চিনতে পারেন। জানাজানি হয়ে যায় গোপীনাথের পরিচয়। এর পরেই দুর্গত মানুষদের যাবতীয় নজর যায় গোপীনাথের দিকে। তাঁকে নিয়ে সেলফি তোলার হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। এই ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি এমন কিছু করিনি।”

তাঁকে নিয়ে খবর করা হোক, সেটাও বিশেষ চাননি গোপীনাথ। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি কোনো খবর হতে চাই না। আমাকে বড়ো করে দেখাবেন না দয়া করে।”

শুধু গোপীনাথই নয়, কেরলের বন্যা দেখিয়ে দিয়েছে রাজ্যের আইএএস আধিকারিকরা ঠিক কী রকম ভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেরলের খাদ্য নিরাপত্তা কমিশনার রাজমাণিক্যকে দেখা গিয়েছে ঘাড়ে করে চালের বস্তা নিয়ে যেতে, ত্রিসুরের জেলাশাসক টিভি অনুপমাকে দেখা গিয়ছে নিজের সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে শিবিরের পর শিবির ঘুরে বেড়াতে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন