দ্য হেগ (নেদারল্যান্ডস): কুলভূষণ যাদবের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করে দিল আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড়ো কূটনৈতিক জয় হল ভারতের। আদালত পাকিস্তানকে পরিষ্কার বলে দিয়েছে, চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত কুলভূষণকে ফাঁসি দেওয়া যাবে না। আদালতের ১১ বিচারকের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, কুলভূষণ যাদবের ক্ষেত্রে ভিয়েনা কনভেনশন প্রযোজ্য হওয়া উচিত ছিল। আগস্ট মাসে এই মামলার চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে বলে আশা করা যায়।

বেঞ্চের অন্যতম সদস্য রনি আব্রাহাম বলেন, “মামলা পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যাদবের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার যে দাবি ভারত করেছে, আদালত তার সঙ্গে সহমত।” আদালত বলেছে, দু’ পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে আদালতের মনে হয়েছে, ভারত যে অধিকারের কথা বলছে, তার মধ্যে যুক্তি আছে। চরবৃত্তির দায়ে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে ভিয়েনা কনভেনশনের নিয়ম প্রযোজ্য নয় বলে পাকিস্তান যে দাবি করেছে তা ঠিক নয় বলে মনে করে আদালত। আদালত বলে, সন্ত্রাসের দায়ে যারা অভিযুক্ত হয়, তারাও ভিয়েনা কনভেনশনের আওতা থেকে বাদ পড়ে না।

আদালত বলেছে, কুলভূষণ যাদবের মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত বিবাদ ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় পড়ে বলে ভারত যে কথা বলেছে, তা যুক্তিসঙ্গত। বিবাদটি হল, দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা পাওয়া নিয়ে। বিচারক রনি আব্রাহাম বলেছেন, যে পরিস্থিতিতে কুলভূষণ যাদবকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা বিতর্কিত।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত হল, বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ মেটানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের আদালত। এই আদালতের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং বিবদমান দেশগুলি তা মানতে বাধ্য। তবে তাদের রায় কার্যকর করানোর কোনো উপায় তাদের নেই। ফলে অনেক সময়েই তাদের নির্দেশ উপেক্ষা করা হয়।

আরও পড়ুন: কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ড রদ করা হোক, আন্তর্জাতিক আদালতে দাবি ভারতের

চরবৃত্তির অভিযোগে ধৃত ও মৃত্যুদণ্ড দণ্ডিত প্রাক্তন ভারতীয় নৌ অফিসার কুলভূষণ যাদবের বিষয়টি নিয়ে সোমবার হেগে আইসিজে-র ১১ সদস্যবিশিষ্ট বেঞ্চের সামনে শুনানি চলে। দু’ দফায় দেড় ঘণ্টা করে মোট তিন ঘণ্টা সওয়াল-জবাব চলে। প্রথমে ভারতকেই বলার সুযোগ দেওয়া হয়। পরের দেড় ঘণ্টায় পাকিস্তান তার বক্তব্য পেশ করে।

শুনানিতে ভারতের আইনজীবী হরিশ সালভে বলেন, ভারত ভিয়েনা কনভেনশন মেনে চলে। কুলভূষণ যাদবের বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিদের দেখা করতে না দিয়ে পাকিস্তান ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে। যাদবকে তাঁর দেশের দূতাবাসের সাহায্য নিতে দেওয়া হয়নি। কেন তা দেওয়া হল না, পাকিস্তান তার কারণও জানায়নি। ভারতের সওয়ালের জবাবে পাকিস্তানের আইনজীবী খওয়ার কুরেশি বলেন, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কুলভূষণকে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি বলে ভারত যে অভিযোগ করেছে, তা সঠিক নয়। ভিয়েনা কনভেনশন যুদ্ধবন্দিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, গুপ্তচরদের জন্য নয়।

উল্লেখ্য, ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রাক্তন অফিসার কুলভূষণ যাদবকে গত বছরের মার্চ মাসে বালোচিস্তান থেকে গ্রেফতার করে পাক সেনা। অভিযোগ, ভারতের হয়ে গুপ্তচরের কাজ করছিলেন তিনি। এক বছর বিচারের পর কিছু দিন আগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয় পাক সেনা আদালত। এই ঘটনায় উত্তেজনার পারদ চড়ে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে। ভারত দাবি করে ইরানে ব্যবসা করতেন কুলভূষণ, সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান।

এই তরজার মধ্যেই, কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করা বা এই সিদ্ধান্তকে বেআইনি বলে ঘোষণা করার দাবিতে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয় ভারত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here