sushma swaraj

নয়াদিল্লি: হিন্দিকে রাষ্ট্রপুঞ্জের অফিসিয়াল ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যদি ৪০০ কোটি টাকা খরচ করতে হয়, তবে তাই করা হবে। এক বিজেপি সাংসদের এমন প্রস্তাবে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, জাতি সংঘের নিয়মাবলি অনুযায়ী, মোট ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ  দেশ সমর্থন জানালে তবেই এই স্বীকৃতি আদায় সম্ভব হতে পারে। তিনি আশাপ্রকাশ করে বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ দেশের সমর্থন আদায় মোটেই কঠিন হবে না। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় বহন করার বিষয়টি এলে অনেক ছোট দেশ হিন্দিকে অফিসিয়াল ভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। কারণ ওই দেশগুলিকেও নিজের দেশে রাষ্ট্রপুঞ্জের সরকারি ভাষার প্রচলনের ব্যয় বহন করতে হয়।তবে ওই প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সরকার ওয়াকিবহাল থাকলেও প্রচেষ্টা জারি রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে হিন্দিকে রাষ্ট্রপুঞ্জের অফিসিয়াল ভাষার স্বীকৃতি দিতে অন্যান্য সদস্য দেশগুলির মতামত এখনও না জানা গেলেও কংগ্রেসের তরফে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। বিদেশমন্ত্রীর এই বক্তব্য শুনে কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর বলেন, ‘যদি আগামীকাল তামিলনাড়ু বা পশ্চিমবঙ্গ থেকে কেউ প্রধানমন্ত্রী হয়ে যান, তাহলে কেন আমরা তাঁকে রাষ্ট্রপুঞ্জে হিন্দিতে কথা বলতে বাধ্য করব?’

সুষমা তারুরকে কিছুটা ভর্ৎসনার সুরে বলেন, তিনি সম্ভবত খবর রাখেন না হিন্দি ফিজির সরকারি ভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে মরিশাস, সুরিনাম, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং অন্যান্য অনেক দেশে ব্যাপকভাবে কথা বলা হয়ে থাকে হিন্দিতে।

তবে ৪০ কোটির জায়গায় ৪০০ কোটি টাকা খরচ করতে বিজেপি সরকার দ্বিধা না করলেও রাষ্ট্রপুঞ্জের নিয়ম মতে তা কখনোই গ্রাহ্য হয় না। সুষমা বলেন, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিয়ম এই লাগাম ছাড়া খরচের অনুমতি দেয় না।

এর পরেও তারুর প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ভারত হিন্দিকে রাষ্ট্রপুঞ্জের অফিসিয়াল ভাষা হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। তার আগে হিন্দিকে দেশের অন্যতম এক ভাষা হিসাবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা করতে হবে। কেননা এটি শুধুমাত্র ভারতের নিজস্ব ভাষা, রাষ্ট্রপুঞ্জের ভাষা নয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here