uttarpradesh bjp

ওয়েবডেস্ক: দেশের বেশির ভাগ মিডিয়া বলছে, উত্তরপ্রদেশের পুরনির্বাচনে নিরঙ্কুশ হয়েছে বিজেপি। ষোলোটার মধ্যে চোদ্দোটা পুরসভার মেয়রপদ ছিনিয়ে বিজেপি বলছে, এর প্রভাব গুজরাত নির্বাচনে পড়বে। দলের সভাপতি অমিত শাহ বলছেন, দেশের ‘মুড’ নাকি এতেই জানান দেয়। এই ফলাফলে দেশের ‘মুড’ যদি সত্যিই জানান দেয়, তা হলে বিরোধীরা কিন্তু সত্যি উজ্জীবিত হতে পারে।

এই যদি দেশের ‘মুড’ হয় তা হলে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি’র ভোটবাক্সে ভাটার টান পড়তে পারে। কেন? দ্য ওয়্যার নিউজের পর্যালোচনায় আলোকপাত করা যাক।

উত্তরপ্রদেশে তিনটে স্তরে নির্বাচন হয়েছে। সব থেকে ওপরে স্তরে পুরসভা, দ্বিতীয় স্তরে মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল এবং তৃতীয় স্তরে নগর পঞ্চায়েত। তিনটে স্তরের নির্বাচনকে যদি এক সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয় তা হলে দেখা যাবে, গত বিধানসভা নির্বাচনের থেকে বিজেপির ভোট কমেছে প্রায় দশ থেকে বারো শতাংশ। মার্চে বিধানসভা নির্বাচনে ৪২% ভোট পেয়েছিল বিজেপি।

পুরসভা নির্বাচনে বিজেপি দুর্ধর্ষ ফল করলেও, পরের দু’টি স্তরে তাদের হাল কিন্তু খুবই খারাপ। সব থেকে বড়ো কথা হল দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্তরে ভোটারদের সংখ্যা প্রথম স্তরের থেকে বহুগুন বেশি। এই ফল গুজরাতে প্রতিফলিত হলে বিজেপির কপালে দুঃখ রয়েছে।

আরও পড়ুন: ইভিএমে অযোধ্যা জিতলেও, ব্যালট ভোটিং-এ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ব্যাপক হার বিজেপির

তিনটে স্তর মিলিয়ে ৬৫২টি শীর্ষ পদের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ শীর্ষপদ পেয়েছে বিজেপি। এর মধ্যে ষোলোটার মধ্যে চোদ্দোটা মেয়রপদ জিতেছে তারা। অন্য দিকে মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের ১৮৪টি শীর্ষপদ এবং নগর পঞ্চায়েতের ৪৩৮টি শীর্ষ পদের মধ্যে বিজেপি জিতেছে মাত্র ১৭০টি শীর্ষপদ জিতেছে।

সব থেকে খারাপ অবস্থা তৃতীয় স্তরে। ৪৩৮-এর মধ্যে বিজেপি মাত্র ১০০টা নগর পঞ্চায়েত প্রধানের পদ জিতেছে। তৃতীয় স্তরে সব থেকে এগিয়ে রয়েছে নির্দলরা। তারা জিতেছে ১৮২টা শীর্ষ পদ। তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে সমাজবাদী পার্টি (৮৩), বহুজন সমাজ পার্টি (৪৫) এবং কংগ্রেস (১৭)।

দ্বিতীয় স্তরে বিজেপি সামগ্রিক ভাবে সর্ব বৃহৎ দল হলেও, বিধানসভা নির্বাচনের থেকে তাদের ভোট-ভাগ কিন্তু অনেক কমেছে। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্তরে বিজেপির অবস্থা বেশ খারাপ। অযোধ্যায়, যোগী আদিত্যনাথ হিন্দুত্বের জিগির তুললেও তাতে বিশেষ প্রভাব পড়েনি। যে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ থেকে গত নির্বাচনে ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বিজেপি, সেই অঞ্চলে পুরনির্বাচনেও ফল ভালো হয়নি তাদের। এই অঞ্চলেরই মেরঠ এবং আলিগড় পুরসভার মেয়রপদ জিতে নিয়েছে মায়াবতির দল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের কোথাও কোথাও বিজেপির ভোট ভাগ ২৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

অমিত শাহ যে দাবি করছেন নির্বাচনের ফলাফল নাকি জিএসটি’র পক্ষে মানুষের সম্মতি, তিনি আদৌ পুরো ব্যাপারটা পর্যালোচনা করে করছেন কি না সেটাই প্রশ্ন। সুতরাং শাহের দাবি মেনে, এই নির্বাচন যদি দেশের ‘মুড’ বোঝায় তা হলে বিরোধীরা আনন্দ করতেই পারেন।

নীচের দুটি স্তরের ফলাফল নিয়ে বিজেপি এখন কী করে সেটাই দেখার।

সৌজন্য: দ্য ওয়্যার নিউজ

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here