minor

ভুবনেশ্বর : হ্যাশট্যাগ ‘মি টু’। সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়েদের প্রতিবাদের স্বর। কিন্তু সেই আওয়াজ কি পৌঁছছে ওড়িশার কোরাপুটের অদিবাসী গ্রামে। বোধহয় না।

কোরাপুটের নন্দপুর ব্লকের বালদায় একটি আদিবাসী বোর্ডিং স্কুলে, প্রধান শিক্ষক ধর্ষণ করেছিল নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে। এ মাসের গোড়ার দিকে আক্রান্তের বাবা, প্রধান শিক্ষক বিধুভূষণ নায়েকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাধন শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়।

ধর্ষণের ঘটনাটি জানাজানি হয় অনেক দিন পর। মেয়েটি তখন পাঁচমাসের গর্ভবতী। চিকিৎকরা জানিয়ে দেন গর্ভপাত করা সম্ভব নয়।

এর পরই গ্রামবাসীর ধর্ষিতার পরিবারকে বয়কট করে।  যেহেতু মেয়েটি বিয়ের আগেই গর্ভবতী হয়ে পড়েছে তাই গ্রামবাসীরা দাবি করে, ‘শুদ্ধিকরণ’-এর জন্য ভোজ দিতে হবে।

হিন্দুস্তান টাইমসকে মেয়েটির বাবা জানিয়েছেন, ‘‘আমি দিন মজুর। ৩০হাজার টাকা খরচ করে গ্রামবাসীকে খাওয়াবো কী করে। তাছাড়া মেয়ের নিয়মিত চিকিৎসার জন্য আমার টাকার প্রয়োজন।’’

কী বলছে জেলা প্রশাসন?

তিনি জেলা প্রশাসন থেকে সাহায্যের আশ্বাস পেয়েছেন। কোরাপুটের জেলা কল্যাণ আধিকারিক জগন্নাথ সোরেন জানিয়েছেন, একটি কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। তদন্তে জানা গিয়েছে প্রধান শিক্ষক ছাড়াও এই ঘটনার সঙ্গে হোস্টেলের মেট্রনও জড়িত। তিনি জানিয়েছেন,‘‘ আমরা জানি পরিবারটি নানা সমস্যা মুখে রয়েছে।  জেলা প্রশাসন কিছুটা সাহায্য করবে।’’

তবে বিভাগীয় তদন্তে ঘটনাটি প্রধান শিক্ষকের ‘অবৈধ সম্পর্ক’ বলেই উঠে এসেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এটি কোনো যৌন হেনস্থার ঘটনা নয়। ‘‘ যেহেতু এটি যৌনহেনস্থার ঘটনা নয়, তাই আমরা ক্ষতিপূরণে জন্য আবেদন করতে পারছি না। জেলা কালেক্টর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।’’

ওড়িশায় ধর্ষণে আক্রান্তদের ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

তথ্য কী বলছে?

ওড়িশায় মহিলাদের উপর অপরাধের হার যথেষ্ট বেশি। রাজ্য পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৬ সালে ২১৪৪টি ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। জাতীয় ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ২২৫১ এবং ২০১৪ সালে ১৯৭৮।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here