নয়াদিল্লি : আর মাত্র দু’ বছরের অপেক্ষা। কাশ্মীরে তৈরি হতে চলেছে বিশ্বের উচ্চতম রেলসেতুর থেকেও উঁচু রেলসেতু। এর উচ্চতা হবে আইফেল টাওয়ারের থেকেও ৩৫ মিটার বেশি।

জম্মু-কাশ্মীরের চেনাব নদীর ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে এই রেলসেতুটি। এটি হবে চেনাব নদী থেকে ৩৫৯ মিটার উঁচু। ১.৩১৫ কিলোমিটার লম্বা। এই ‘ইঞ্জিনিয়ারিং মার্ভেল’ সেতুটি জম্মুর কাটরার বাক্কাল আর শ্রীনগরের কুরিকে যুক্ত করবে। এটি তৈরি করতে খরচ হবে প্রায় ১১১০ কোটি টাকা। এই সেতুটি ধরা থাকবে অর্ধচন্দ্রাকৃতির একটি কাঠামোর সাহায্যে। গোটা সেতুটি তৈরি করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ২৪ হাজার টন বিশেষ ধরনের স্টিল। ২০১৯ সালের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুলা রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার অঙ্গ হিসেবেই তৈরি হচ্ছে সেতুটি।

এই সেতুটিতে নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে বেশ কিছু নতুন প্রযুক্তি। এই পরিবেশে সেতুটি যাতে প্রতি ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার বেগে বায়ুপ্রবাহ ও -২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে তার জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। অত্যাধুনিক সেন্সার ব্যবহার করা হবে এই  সেতুটিতে, যাতে প্রতি মুহূর্তে বায়ুর গতপ্রকৃতি সম্পর্কে খবরাখবর রাখা যায়। এটি বায়ুর গতি ৯০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা হলেই সংকেত দিতে থাকবে। লাইনের রঙ পরিবর্তন হয়ে লাল হবে। তাতে রেলের গতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

তাছাড়াও সেতুটির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ৬৩ মিলিমিটারের মোটা স্টিল ব্যবহার করা হবে, যেটি সম্পূর্ণভাবে বিস্ফোরণ নিরোধক। মন্ত্রক জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা নেওয়ার মূল কারণই হল এই এলাকাটি সন্ত্রাসবাদ প্রবণ। এই কারণেই নিরাপত্তার স্বার্থে রেল লাইনের সঙ্গে থাকবে রোপ-ওয়ে ব্যবস্থাও। এর সাহায্যে প্রতিমুহূর্তে সেতুর ওপর নজরদারি করা যাবে। এ ছাড়াও অনলাইনে সর্বক্ষণই এই বিষয়ে যোগাযোগ রাখা হবে। তাতে সুরক্ষা সংকেতের ব্যবস্থাও থাকবে। গোটাটাই ‘এরিয়াল সিকিউরিটির’ ঘেরাটপে থাকবে। সঙ্গে থাকছে সেতুর স্তম্ভগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার। তাতে করে কংক্রিটের স্তম্ভগুলো হবে বিস্ফোরণ মোকাবিলা করার শক্তিসম্পন্ন। এতে ব্যবহার করা হবে বিশেষ ধরনের রঙ, যা জং পড়তে দেবে না ১৫ বছর। বিপদের সময়ে কাজে লাগানোর জন্য সেতুতে থাকবে ফুটপাত ও সাইকেল ট্রেলের ব্যবস্থাও।

এই সেতুটি চালু হলে তা এলাকার পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্যের তথা অর্থনৈতিক উন্নতির ক্ষেত্রে খুবই লাভজনক হবে বলে মনে করছে মন্ত্রক। সুবিধা হবে সেনার চলাচলেও। প্রসঙ্গত, এটি সম্পূর্ণ হলে তা ২৭৫ মিটারের বিশ্বের উচ্চতম রেলসেতু চিনের বেইপান নদীর ওপর অবস্থিত শুইবাই-এর রেকর্ড ভেঙে দেবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here