নয়াদিল্লি : ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস হিসবে পালিত হয়ে আসছে ১৯৮২ সাল থেকে। 

বিশেষ এই দিনটিতে টিবি-র বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো যাক। জেনে নেওয়া যাক কতকগুলি জরুরি বিষয়।

‘হু’ বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট বলছে, টিবিতে মৃত্যুর ৬০% ঘটনা ঘটে মাত্র ছ’টি দেশে। তার মধ্যে প্রথম ভারত, তার পর রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, চিন, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা।

২০১৫ সালে বিশ্ব জুড়ে চোদ্দো বছরের কম বয়সি ১০ লাখ শিশু টিবি-তে আক্রান্ত হয়েছে। তাঁর মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার শিশুই মারা গেছে। ভারতে শিশু মৃত্যুর তিন ভাগের এক ভাগ ঘটে অপুষ্টিজনিত কারণে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশুদের মধ্যে টিবি সংক্রমণের পরিমাণ আর আশঙ্কা বেশি। বিশ্বের শিশুমৃত্যুর প্রথম সারির দশটি কারণের মধ্যে যক্ষ্মা একটি অন্যতম কারণ। হু-র রিপোর্ট বলছে, বিশ্বের কমবেশি ৫ লাখ শিশু টিবিতে ভোগে।

দ্বারকার বেঙ্কেটেশ্বর হাসপাতালের প্রধান ডাক্তার সুনীল কুমার মেহেদিরাত্তা বলেন, অপুষ্টি শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমশ কমিয়ে দেয়। ফলে টিবি রোগের সঙ্গে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে যায়। এই ব্যাকটেরিয়া প্রথম আক্রমণ করে ফুসফুসে। পরে তা শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে। গড়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ টিবি রোগীই চোদ্দো বছরের নীচে। 

ডাক্তার রাহুল নাগপাল বলেন, মূলত অসচেতনতা, অসতর্কতা, ঠিক চিকিৎসার অভাবের জন্য এই রোগের কবলে পড়তে হয় শিশুদের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন—–

কী ভাবে ছড়ায় এই রোগ?

  • যাঁরা এইচআইভি-তে আক্রান্ত তাঁদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তাঁদের বেশির ভাগই টিবিতে ভুগে মারা যান।
  • বায়ুদূষণ থেকেও টিবি হয়। নির্মাণশিল্পের এলাকাগুলিতে দূষিত কণার মাত্রা বেশি যা ফুসুফুসকে আক্রমণ করে।
  • রায়ু্বাহিত হয়েও এই রোগ ছড়ায়। অর্থাৎ যিনি টিবিতে আক্রান্ত তাঁর হাঁচি, কাশি থেকে বায়ু দূষিত হয়। আর সেই দূষিত বায়ু বাহিত হয়ে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় টিবি রোগ সুপ্ত ভাবে মানুষের মধ্যে থাকে। রোগী সেটা আন্দাজও করতে পারেন না। বিশ্বে এমন রোগীর সংখ্যা প্রায় ২৩০ কোটি। 

কোথায় কোথায় এই রোগের সম্ভাবনা বেশি?

উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। এ ছাড়াও হাসপাতাল, নার্সিং হোম, রাস্তায় থাকা মানুষজন, অভিবাসন কেন্দ্রগুলোতে এই রোগের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

শরীরের কোন কোন অঙ্গে টিবি হতে পারে?

সাধারণত ফুসফুসে এই রোগ হলেও এ ছাড়া মস্তিষ্কে, আর বৃক্কতেও এই রোগ হয়।

রোগের উপসর্গ কী কী?

এই রোগের চিহ্নগুলি হল, ২-৩ সপ্তাহ ধরে কাশি, মাঝে মাঝে কাশির সঙ্গে রক্ত পড়া, শীতের মধ্যেও গরম লাগা, ওজন কমে যাওয়া, দুর্বলতা, রাতের বেলায় জ্বর হওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অবসাদ, নিঃশ্বাসে শব্দ।

কী খাওয়া যাবে না?

এই রোগ হলে সত্বর নেশা করা বন্ধ করতে হবে। তামাক, অ্যালকোহল, ক্যাফিন জাতীয় কোনো কিছুই খাওয়া যাবে না। ভাত, চিনি, সাদা পাউরুটি খাওয়া কমাতে হবে। মাংস আর কলেস্টেরল জাতীয় খাবার খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

কোন জাতীয় খাবার খাবেন?

গম জাতীয় খাবার, টাটকা সবুজ সবজি, মাছ, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে এমন খাবার বেশি করে খেতে হবে।  

১৮৮২ সালের ২৪ মার্চ আবিষ্কার হয় মাইক্রোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস ব্যাকটেরিয়াটি। এই ব্যাকটেরিয়ার জন্যই টিবি রোগ হয়। এটি আবিষ্কার করেন জার্মান মাইক্রোবায়োলজিস্ট রবার্ট কখ। এই আবিষ্কারের ১০০ বছর পূর্তিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন এগেনস্ট টিউবারকিউলোসিস অ্যান্ড লাঙ্গ ডিজিজ’ এই দিনটিকে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস হিসেবে পালন করা শুরু করে। 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here