অবিরাম বৃষ্টি ও ধসে বিপর্যস্ত উত্তরপূর্ব ভারত, গুয়াহাটিতে জীবনযাত্রা স্তব্ধ

0
588
মিজোরামে ধস বিপন্ন বাড়িঘর।

নিজস্ব সংবাদদাতা, গুয়াহাটি : সোমবার থেকে অবিরাম বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত গোটা উত্তরপূর্ব ভারত। বৃষ্টি ও ধসে মিজোরামের বহু এলাকা বিচ্ছিন্ন। মারা গিয়েছেন অন্তত তিন জন। মেঘালয়ের জয়ন্তিয়া পাহাড়েও ধস নেমেছে। অরুণাচলে অতিভারী বৃষ্টির ফলে নদীগুলির কমতে থাকা জলস্তর ফের ফুলে ফেঁপে উঠেছে।

বিভিন্ন জায়গায় নদীগুলো বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। অসমের লখিমপুর, ধেমাজি, ডিমা হাসাও, গোহপুরে দেখা দিয়েছে বন্যা।

গুয়াহাটি মহানগরে স্তব্ধ  হয়ে পড়েছে জীবনযাত্রা। শহরের এমন সব জায়গা জলে ডুবেছে, যেখানে আগে তেমন জল জমেনি। ব্রহ্মপুত্রে জল বাড়ায় গুয়াহাটিতে বন্ধ ফেরি। জু রোডে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দু’ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার থেকেই অসম-সহ উত্তর-পূর্বে নিম্নচাপ চলছে। চলছে বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃষ্টি চলে নাগাড়ে। গত ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে ৩১৮ মিলিমিটার, শিলংয়ে ১০৬, আগরতলায় ৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্ত গুয়াহাটির বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়েছে ৬৮ থেকে ৭৩ মিলিমিটার। গত ২৪ ঘণ্টার হিসেবে এই পরিমাণ ১০০ মিলিমিটার। আরও চার দিন এমনই আবহাওয়া থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

এ দিকে বিকেল পর্যন্ত আসা খবরে মিজোরামের আটটি জেলা মিলিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় ১৩৭টি বাড়ি ধসে পুরো বা আংশিক ভেঙে গিয়েছে। সহস্রাধিক পরিবার ঘরছাড়া। মারা গিয়েছেন তিন জন। নিখোঁজ দু’জন, জখম ছয়। ৫২টি নৌকা নিখোঁজ।

ভেঙেছে অনেক গাড়ি। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

মিজোরামের বহু জায়গায় রাস্তা ভেঙে গিয়ে সড়ক ব্যবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে।

গুয়াহাটিতে এ দিন জি এস রোড, গণেশগুড়ি, এবিসি, নারেঙ্গি, পুরোনো ভিআইপি রোড, কছারিবস্তি, লাচিতনগর, শিলপুখুরি, আমবাড়ি, অনিলনগর, নবীননগর, কালাপাহাড়, মালিগাঁও, হাতিগাঁও, ধীরেনপাড়া, ছয়মাইল, বিরুবাড়ি, জু রোড, চাঁদমারি, ভরলু-সহ সিংহভাগ এলাকাই জলমগ্ন। কোথাও জল কোমর-বুক পর্যন্ত। অনেক রাস্তায় জলে ডুবে বিকল হয়েছে যানবাহন। বহু এলাকায় বাড়ির মধ্যে জল ঢুকে বিপদের মুখে এলাকাবাসী। দিশপুর বিধায়ক আবাসেও জল ঢুকে যাওয়ায় এলাকা জুড়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

গত এক বছরে শহরের নালা-নর্দমা সাফাই করা, তৈরি করা, নিকাশি উন্নত করা, জলাশয়ের মুখ সাফ করার পরে মন্ত্রী, জেলাশাসকরা দাবি করেছিলেন ২০১৭ সালের বর্ষায় অনেক কম জল জমবে শহরে। কিন্তু প্রথম ধাক্কাতেই সেই দাবি অসার প্রমাণ হল। বোন্দা, কামাখ্যা, মালিগাঁও, নিজরাপার, চাঁদমারিতে ধস নেমেছে। ভেঙে পড়েছে লখরায় কেন্দ্রীয় কারাগারের ৩০ ফুট দেওয়াল। জেলা প্রশাসন ধসপ্রবণ এলাকা থেকে সকলকে সরে আসার অনুরোধ করেছে। খোলা হয়েছে হেল্পলাইন। কাজে নেমেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

তেজপুরেও ব্রহ্মপুত্র প্রায় ৬৩ মিটারে বইছে, খলিসামারিতে জিয়াভরালি নদী বইছে ৭২.৮ মিটার দিয়ে। নিপকো রাঙানদী বাঁধের জল ছাড়ায় উজান অসমে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ, টেলিসংযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here