হামবুর্গ (জার্মানি): চিন বলেছিল, এখনকার পরিস্থিতি ভারতের সঙ্গে আলোচনার সহায়ক নয়। আর ভারত বলেছিল, তারা তো আলোচনায় বসতে চায়নি। সুতরাং পরিস্থিতি সহায়ক কি সহায়ক নয়, এ প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?

কিন্তু যে যাই বলুক, দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে কথা হল। শুধু তা-ই নয়, নিজেদের বক্তৃতায় একে অপরকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন। শুক্রবার হামবুর্গে ব্রিক্স-এর ঘরোয়া বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনা প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং-এর মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় হল, হল দু’ জনের করমর্দন এবং কথাও। তবে দুই নেতার আলাদা করে বসার কোনো কর্মসূচি নেই।

বেশ কিছু দিন ধরে সিকিম সীমান্তে ভারত ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কে এখন বেশ কিছুটা ভাটার টান। এই অবস্থায় হামবুর্গে বসেছে জি ২০ শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনের ফাঁকেই ব্রিক্স গোষ্ঠীভুক্ত ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকা ঘরোয়া আলোচনায় বসে। সেখানে দুই নেতার সাক্ষাৎ হয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “চিনা প্রেসিডেন্টের চেয়ারম্যানশিপে ব্রিক্স-এ যে গতি সঞ্চার হয়েছে”,  ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ বছরের শেষে চিনের জিয়ামেন-এ ব্রিক্স-এর যে শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা তার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন মোদী এবং আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে রাখেন।

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আলোচনার সমাপ্তিসূচক বক্তৃতায় চিনা প্রেসিডেন্ট সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় ভারতের দৃঢ়প্রতিজ্ঞার প্রশংসা করেন। ২০১৬-য় গোয়া শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফলের মাধ্যমে এবং ভারতের নেতৃত্বে ব্রিক্স-এর যে অগ্রগতি হয়েছে তারও প্রশংসা করেন ঝি জিনপিং। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্যেরও কথা বলেন তিনি এবং ভারতের আরও বড়ো সাফল্য কামনা করেন।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গোপাল বাগলে টুইট করে বলেছেন, “হামবুর্গে চিনের আহ্বানে আয়োজিত ব্রিক্স নেতাদের ঘরোয়া আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রেসিডেন্ট জি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।”

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন