বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি সৌজন্যে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

ওয়েবডেস্ক: অসমের নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হওয়ার সপ্তাহ দুয়েক আগেই বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে ঘরোয়া ভাবে জানিয়ে রেখেছিল ভারত। এবং এ নিয়ে দু’ দেশের সম্পর্কে যাতে কোনো চিড় না ধরে তার জন্য বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছিল, কাউকে ‘ফেরত পাঠানো’র ব্যাপারে কোনো আলোচনার কথাই উঠছে না।

সূত্র মারফত দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানতে পেরেছে, অসমের জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) বিন্যাসটা কেমন এবং এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার কী প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছে সে সম্পর্কে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে বুঝিয়ে বলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। রাজনাথ গত ১৩ জুলাই যখন ঢাকা সফরে যান, তখনই এই বিষয়টি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে কথা হয়।

আরও পড়ুন নাগরিকপঞ্জি নিয়ে এ বার সুপ্রিম কোর্টের দিকেই ‘বল’ ঠেললেন রাজনাথ

সূত্র মারফত আরও জানা গিয়েছে, অসমে নাগরিক পঞ্জিকরণের কাজ যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই হচ্ছে ঢাকাকে সে কথা জানিয়েছে দিল্লি। এবং ঢাকাকে এ কথাও জানানো হয়েছে যে, এই নাগরিকপঞ্জি ‘একেবারেই খসড়া’। ওই সূত্র বলে, “ঢাকাকে আরও বলা হয়েছে, কাউকে সে দেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে কেউ কিছু বলছে না।”

আরও পড়ুন কেন নাগরিকপঞ্জি নিয়ে এত হুড়োহুড়ি বিজেপির?

ওই সূত্র আরও বলে, “আমরা এনআরসি প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে আগাগোড়াই অবহিত রেখেছিলাম, যদিও ফলাফল কী হবে জানা ছিল না। এর প্রতিক্রিয়াকে সংযত করতে আমরা একনিষ্ঠ ভাবে কাজ করেছি এবং এ সপ্তাহে খসড়া তালিকা প্রকাশিত হওয়ার আগে থেকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছি।”

আরও পড়ুন মমতার ‘গৃহযুদ্ধ’ পুঁথিগত মান্যতা না পেলেও নাগরিকপঞ্জি নিয়ে বিজেপির উৎফুল্ল হওয়ার কারণ নেই

গত মঙ্গলবার অসমে খসড়া জাতীয় নাগরিকপঞ্জি প্রকাশিত হয়। এই তালিকা থেকে ৪০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। খসড়া তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলি এবং শাসক আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক তথা পরিবহণমন্ত্রী ওবাইদুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করেন।

আরও পড়ুন নাগরিকপঞ্জিতে নাম-না-থাকা মানুষদের অনুপ্রবেশকারী বলা যাবে না, বললেন প্রতীক হাজেলা

এ দিকে সিঙ্গাপুরে আসন্ন এসিয়ান মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে মাহমুদ আলির সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন ভারতের বিদেশ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ভি কে সিং। নাগরিকপঞ্জির ব্যাপারে বাংলাদেশের দূত সৈয়দ মুয়াজ্জেম আলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এই পর্যায়ে আমাদের কিছু বলার নেই।”

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন