benjamin netanyahu

ওয়েবডেস্ক: দম্পতিরা কি আর পরস্পরকে চমক দিতে মাঝে মাঝে একে অন্যের জন্য সারপ্রাইজ ডিনারের আয়োজন করেন না?

অতএব, নরেন্দ্র মোদীও যদি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জন্য ব্যক্তিগত তরফে এক ভোজসভার আয়োজন করেন, আশ্চর্য হওয়ার কী আছে! সেই ২০১৭ সালের জুলাই মাস থেকেই দুজনের বা বলা ভালো দুই দেশের সম্পর্ক ম্যারেজ মেড ইন হেভেন! আমরা নই, কথাটা সে বার মোদীকে নিজের দেশে পেয়ে বলেছিলেন খোদ নেতানিয়াহুই। এবং রবিবারের ভোজসভায় স্পষ্ট করে দিলেন তিনি, এখনও সেই দাম্পত্য অটুট রয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘বন্ধু’ মোদীকে বিশেষ জিপ উপহার দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী, কেমন সে জিপ?

আসলে যে দিন থেকে জেরুজালেমকে ইজরায়েলের রাজধানী বলে ঘোষণা করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প, সে দিন থেকেই রাষ্ট্রপুঞ্জ সেই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশগুলোই ইজরায়েল আর প্যালেস্টাইনের ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষের দিকটা মাথায় রেখে ট্রাম্পের মতের বিপক্ষেই ভোট দিয়েছেন। ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়। যা কি না ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর খুব একটা ভালো ভাবে নেওয়ার কথা নয়। অন্তত তেমনটাই ভেবে রেখেছিল ভারতের রাজনৈতিক মহল।

কার্যত কিন্তু এ সব কিছুকে এক ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন নেতানিয়াহু। সাফ জানালেন, জেরুজালেমকে ইজরায়েলের রাজধানীতে পরিণত করার সিদ্ধান্ত উপলক্ষে রাষ্ট্রপুঞ্জের যে ভোটাভুটি এবং তাতে ভারতের সায় না দেওয়া, আদৌ কোনো প্রভাব ফেলবে না দুই দেশের সম্পর্কে। “পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী এই দেশ এবং ইজরায়েলের মধ্যে সম্পর্কের বাঁধন আরও দৃঢ় করতে চাই। যা নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, পর্যটন- সব দিক থেকেই সমৃদ্ধ করবে ইজরায়েলকে। এ যেন বৈবাহিক সম্পর্ক, ঈশ্বরের আশীর্বাদ”, জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদীকে ইজরায়েলের তো বটেই, নিজেরও ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বলে দাবি করতে ছাড়েননি।

সে না হয় হল! কিন্তু নেতানিয়াহুর বহুগামিতা যে চিন্তার কারণ ডেকে আনছে। ২০১৭-র মার্চে তিনি যখন চিনে গিয়েছিলেন, তখনও বলেছিলেন দুই দেশের সম্পর্ক ম্যারেজ মেড ইন হেভেন! ও দিকে, ২০১৬-র ফেব্রুয়ারিতে মাইক্রোসফ্ট সিইও-র সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গেও বলেছিলেন, ইজরায়েল নানা প্রযুক্তিগত আবিষ্কারের কেন্দ্র। আবার মাইক্রোসফ্ট দারুন এক প্রযুক্তি সংস্থা। এ যেন স্বর্গে স্থির হওয়া বৈবাহিক সিদ্ধান্ত যা পৃথিবীতে বাস্তবায়িত হল!

বোঝো কাণ্ড! তা হলে কি ভারত, চিন, মাইক্রোসফ্ট- সব ইজরায়েলের সঙ্গে স্বর্গে স্থির হওয়া বৈবাহিক সূত্রে সতীনে পরিণত হল?

বলা মুশকিল! যদিও একটা দিকে খেয়াল না রাখলেই নয়! দুই সতীনে যেমন চুলোচুলি করে, তেমনই একটা বিবাদের সম্পর্কের মধ্যে কিন্তু রয়েছে ভারত আর চিন!

বাকিটা নিজেই বুঝে নিন না হয়!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here