নয়াদিল্লি: ছ’মাস আগে যা ছিল, এখনও তাই। কোনো বদল নেই ভারত-চিন সম্পর্কে!

বেজিং সীমান্ত চুক্তি লঙ্ঘন করার পরে চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন একটা “খুব কঠিন পর্যায়ের” মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে গত ফেব্রুয়ারিতে মন্তব্য করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। রবিবার ফের তাঁর মুখে একই কথা। বললেন, ভারত-চিন সম্পর্ক যে খুব কঠিন পর্যায়ে যাচ্ছে, “এটা কোনো গোপন বিষয় নয়”।

কী বললেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর?

এ দিন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্ক যে খুব কঠিন পর্যায়ে যাচ্ছে, তা কোনো গোপন বিষয় নয়। নব্বইয়ের দশক থেকেই উভয় দেশের মধ্যে সীমান্ত চুক্তি ছিল। নিষিদ্ধ অঞ্চলে বিশাল সৈন্য আনা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ওই চুক্তিতে। কিন্তু বেজিং সেই চুক্তিগুলিকে লঙ্ঘন করেছে।

পূর্ব লাদাখে বছরের পর বছর ধরে ভারত ও চিন সীমান্ত বিরোধে চলছে। ২০২০ সালে চিনা বাহিনী প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বিশাল সৈন্য জড়ো করে। ভারতের দাবিকৃত এলাকায় প্রবেশ করার পরে বিরোধ আরও বেড়ে যায়। সংঘর্ষে নিহত হন দু’দেশেরই জওয়ান। তার পর থেকে সীমান্তে সৈন্যদের ব্যাপক উপস্থিতি বজায় রেখেছে চিন। শুধু তাই নয়, সেনা কার্যকলাপ গতিশীল করার জন্য ওই এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নও করছে বেজিং।

২০২০ সালের পর থেকে সীমান্তে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একের পর এক বৈঠক করেছেন দু’দেশের দায়িত্বপাপ্ত সেনা আধিকারিকরা। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর শান্তি বজায় রাখতে বেশ কয়েকটি সীমান্ত চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে ভারত ও চিন।

চুক্তি রয়েছে চুক্তির জায়গায়!

১৯৯৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর, দু’দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্বাক্ষরিত একটি চুক্তিতে, নয়াদিল্লি এবং বেজিং শান্তিপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত পরিস্থিতি সমাধান করতে সম্মত হয়। চুক্তিটিতে বলা হয়েছে, “কোনো পক্ষই অন্যের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ বা হুমকি দেবে না…দুই পক্ষ কঠোর ভাবে দু’পক্ষের মধ্যকার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখাকে সম্মান ও যত্ন করবে। উভয় পক্ষের কোনো কার্যকলাপ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণের রেখাকে অতিক্রম করবে না”।

ওই চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, “প্রত্যেক পক্ষ নিজের ন্যূনতম স্তরে সামরিক বাহিনীকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর রাখবে। যা দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং প্রতিবেশী সম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উভয় পক্ষকেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর নিজের সামরিক বাহিনী কমাতে সম্মত হতে হবে। পারস্পরিক এবং সমান নিরাপত্তা নীতির প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সীমা পারস্পরিক ভাবে মেনে চলতে হবে”।

তবে চুক্তি রয়েছে চুক্তির জায়গাতেই। চিনের পদক্ষেপ বলছে অন্য কিছু। ২০২০ সালের এপ্রিলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে হাজার হাজার সেনা জমায়েত করে সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে চিন।

২০২০-র আগে সম্পর্ক কেমন ছিল?

গত ফেব্রুয়ারিতে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর দাবি করেন, ২০২০ সালের জুন মাসের আগে পর্যন্ত চিনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তার পর থেকে স্পষ্ট যে চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক একটা কঠিন পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ৪৫ বছর ধরে শান্তি বজায় ছিল, স্থিতিশীল সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ছিল। ১৯৭৫ সালের পর থেকে সীমান্তে কোনো সামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। সেই পরিস্থিতি এখন আর নেই।

প্যাংগং হ্রদ এলাকার ভারত-চিনা সেনার সংঘর্ষের পর পূর্ব লাদাখের বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকায় স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হয়। ২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় একটি মারাত্মক সংঘর্ষের পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। উভয় পক্ষই হাজার হাজারে সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি ভারী অস্ত্রশস্ত্র মজুত করতে শুরু করে। প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করে এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বের কাছেই উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করে আন্তর্জাতিক মহল।

সম্পর্ক উন্নতিও হবে না যদি…

চলতি মাসে বেঙ্গালুরুতে এক আলোচনাসভায় বিদেশমন্ত্রী বলেন, ভারত এবং চিনের মধ্যে সীমান্তের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না সম্পর্কে স্থায়ী শান্তি আসবে না।

তাঁর কথায়, ‘‘আমরা আমাদের অবস্থানেই রয়েছি। চিন যদি সীমান্তে শান্তি বিঘ্নিত করে তবে তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলবে। আমাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তা স্বাভাবিক হতেও পারে না।”

জয়শঙ্কর জানান, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের উপর দিয়ে চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ কর্মসূচির অন্তর্গত ‘চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর’ (সিপিইসি) নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি বেজিং। এমন পদক্ষেপ দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্কের পরিপন্থী বলে জানান বিদেশমন্ত্রী।

আরও পড়তে পারেন:

দিল্লি পুলিশের হাতে আটক রাকেশ টিকায়েত, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি কৃষক নেতার

গুজরাত হিংসা মামলা: সোমবার তিস্তা শেতালওয়াড়ের জামিন আবেদনের শুনানি সুপ্রিম কোর্টে

সিবিআই-কে সেটিংয়ের বিস্ফোরক দাবি দিলীপের, শুভেন্দুকে গ্রেফতার করার কৌশলী বিবৃতি, কটাক্ষ কুণালের

দলিত যুবককে চপ্পল দিয়ে পেটাচ্ছেন গ্রামপ্রধান, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশি পদক্ষেপ

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন