নয়াদিল্লি : সমাজের ঘুম কি ভাঙবে না? নয় নয় করে তো বহু মেয়ের ওপরই নেমে এসেছে এমন কালো অন্ধকার। এক শ্রেণির পৈশাচিক মানসিকতার লোকের উগ্র লালসার শিকার হচ্ছে আট মাসের শিশু থেকে অশীতিপর বয়স্ক মহিলাও। সবটাই কি দুর্ভাগ্য বলে মেনে নিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে সমাজ? এই সব প্রশ্নের উত্তর দেবে কারা?

আবার একটা শিশু ধর্ষণের ঘটনা। জায়গা ফের রাজধানী। উত্তর পশ্চিম দিল্লির নেতাজি সুভাষ প্লেসের এক দরিদ্র পরিবারের ঘটনা। আট মাসের একটি ছোট্টো শিশুকে রক্তাক্ত করল তারই জ্যাঠতুতো দাদা। সোমবার ঘটনা সামনে আসে। অভিযুক্ত এই দাদার বয়স ২৮ বছর। ঘটনা জানাজানি হতেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। জেরার মুখে অভিযুক্ত স্বীকার করেছে, মদের নেশায় আচ্ছন্ন ছিল সে। ঘরে কেউ নেই দেখে সেই সুযোগেই এই অপকর্ম করেছে সে।

আরও পড়ুন : ফের হরিয়ানা, এ বার গুরুগ্রামে গাড়ি থেকে মহিলাকে বের করে স্বামীর সামনে ধর্ষণ

শিশুটির ওপর অত্যাচার হয় রবিবার। সেই সময় তার মা ঘরে ছিল না। ফিরে এসে মেয়ের জামায় রক্তের দাগ দেখে। এর পরই বাবা মা শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে যান। হাসপাতাল থেকে তাঁদের জানানো হয় তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। গুরুতর ভাবে জখম হয়েছে শিশুর শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলি। তার পর দীর্ঘ সময়ের অস্ত্রোপচার চলে। শেষে আইসিইউতে রাখা হয়েছে তাকে। আপাতত তার অবস্থা স্থিতিশীল।

জানা গিয়েছে, শিশুর মা লোকের বাড়ি কাজ করেন। বাবা মজুর।  প্রতি দিন কাজে যাওয়ার সময় শিশুর জ্যাঠাইমায়ের কাছে তাকে রেখে যায়। জ্যাঠাইমায়েরই ছেলে ধর্ষণ করে শিশুটিকে।

দিল্লির মহিলা কমিশনের প্রধান স্বাতী মালিয়াল ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে তিনি টুইট করেছেন। টুইটে বলেছেন, দেশের মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য আরও কঠিন আইন আনতে হবে। পুলিশি নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।

 

প্রসঙ্গত ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালে ১৯৭৬৫টি শিশুধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে। এই সংখ্যা ২০১৫ সালের থেকে ৮২% বেশি। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১০৮৫৪।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন