খবরঅনলাইন ডেস্ক: গত ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক কিছু উন্নত হতে শুরু করে। জম্মু-কাশ্মীরে ভারত এবং পাকিস্তান সেনার মধ্যে গুলিবিনিময় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কাশ্মীরে ছোটোখাটো জঙ্গি হামলা লেগে থাকলেও গত দু-আড়াই মাসে, বড়ো ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

আন্তর্জাতিক মহলে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে বড়ো ভূমিকা পালন করছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরব। আরবের এই দুই দেশের সম্পর্ক ভারত ও পাকিস্তান, উভয়ের সঙ্গেই ভালো। যদিও এই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে চুপ নয়াদিল্লি।

Loading videos...

কিছু দিন আগেই সৌদি আরব সফরে গিয়েছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেই সফর শেষেই সৌদি বিদেশমন্ত্রী প্রিন্স ফয়জল বিন ফারহান আল-সৌদ দাবি করেন যে ভারত-পাকিস্তান শান্তি প্রক্রিয়াতে বড়ো ভূমিকা পালন করতে পারে তাঁর দেশ।

পাকিস্তানের একটি টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে ২০০৩ সালের সংঘর্ষবিরতি চুক্তি পুনর্বহাল করে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করায় ভারত ও পাকিস্তানের প্রশংসাও করেন ফয়জল। তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে ক্রমেই সম্পর্ক ভালো হচ্ছে পাকিস্তানের। আমরা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকে ঠান্ডা করার লক্ষ্যে কাজ করব।”

উল্লেখ্য, সৌদি বিদেশমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কয়েক সপ্তাহ আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত আরব আমিরশাহির রাষ্ট্রদূত ইউসেফ আল ওতাইবা জনসমক্ষে মেনে নেন যে ভারত ও পাকিস্তানকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর নেপথ্যে বড়ো ভূমিকা পালন করেছে তাঁর দেশ। তিনি এ-ও জানান যে ক্রমেই আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশ ফের শান্তির পথে অগ্রসর হচ্ছে। কাশ্মীর প্রসঙ্গেও আলোচনা এগোচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যান্য সময় হলে ভারত-পাকিস্তান শান্তি প্রক্রিয়ায় তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের বিষয়টি সপাটে উড়িয়ে দিত নয়াদিল্লি। প্রত্যেক বার সেটাই করে এসেছে। তবে সৌদি এবং আমিরশাহির তরফে এই সংক্রান্ত বক্তব্যের পরও নয়াদিল্লি চুপ। এর ফলেই বেড়েছে জল্পনা। আর এই কারণেই ভারত-পাকিস্তান আলোচনায় সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করার বিষয়টি ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন ব্যক্তি জানিয়েছেন যে গত জানুয়ারিতে দুবাইতে ভারত-পাকিস্তান গোয়েন্দা প্রধানদের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পরই সংঘর্ষবিরতি চুক্তি মানার বিষয়ে সম্মত হয় দুই দেশ।

উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির। এ দিকে ভারতের সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সম্পর্ক ক্রমেই মধুর হয়ে উঠেছে।

এরই মাঝে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি বুঝেছে যে দক্ষিণ এশিয়া শান্ত থাকলে তা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে ভালো। এই আবহে এই অঞ্চলে আরও প্রভাব বিস্তার করতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ঝামেলা মেটানোর উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি এবং আমিরশাহি।

বিভিন্ন সূত্রের খবর, পাকিস্তান এখন বড়ো একটি ঘোষণার জন্য ভারতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ব্যাপারে বড়ো কোনো ঘোষণা হতে চলেছে। আমিরশাহি এবং সৌদি আরব আরও কত ভূমিকা পালন করে সেটাই এখন দেখার।

আরও পড়তে পারেন Coronavirus Second Wave: পরিস্থিতির ক্রমশ উন্নতি, তবুও লকডাউনসুলভ বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়াচ্ছে মহারাষ্ট্র

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.