জেনেভা: ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে, অভিযোগ করেছিল পাকিস্তান। উত্তরে ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহাতগি বললেন, সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা ভারতীয় রাজনীতির একটি প্রধান দিক। রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার পরিষদের বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে গিয়েছেন রোহাতগি। মানবাধিকার রক্ষায় সদস্য দেশগুলি কী পদক্ষেপ করছে তা খতিয়ে দেখা ও মূল্যায়ন করার জন্য এই বৈঠক বসেছে জেনেভায়। বৃহস্পতিবার ওই বৈঠকে রোহাতগি বলেন, ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, ভারতের কোনো রাষ্ট্রীয় ধর্ম নেই এবং এদেশের সংবিধান সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে তুলে ধরেছে।

চার বছর অন্তর এই বৈঠক হয়ে থাকে।

“বিশ্বের বৃহত্তম বহুস্তরীয় গণতন্ত্র হিসেবে আমরা বাক স্বাধীনতার অধিকারকে স্বীকৃতি দিই। ভারতের জনগণ তাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতার অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং যখনই সুযোগ আসে, তাঁরা সেই অধিকার প্রয়োগ করেন”, বৈঠকে বলেন রোহাতগি।

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে অ্যাটর্নি জেনারেল বারবার মানবাধিকার রক্ষায় আদালত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলির গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে মুকুল রোহাতগি কম করে একুশ বার ‘আদালত’ শব্দটি উচ্চারণ করেন।

ইয়াকুব মেমন মামলা, দূষণমুক্ত পরিবেশের অধিকার, আফস্পা প্রসঙ্গে সরকারি বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান, রূপান্তরকামীদের তৃতীয় লিঙ্গের মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতে আদালতের ভূমিকার কথাও তোলেন মুকুল।

এই বৈঠকে সব সদস্য দেশই নিজেদের দলিল পেশ করে। সকলেরই অধিকার আছে অন্যের দলিল সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার এবং ব্যাখ্যা চাওয়ার। ভারতের ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি।

ভারতকে মৃত্যুদণ্ড তুলে দিতে বলে ইতালি, ইজরায়েল এবং জাপান। ১৯ বছর আগে ‘অত্যাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক সম্মেলন’-এ সই করেছিল ভারত। সেই অনুযায়ী ভারতের ফৌজদারি আইন পালটানোর কথা ছিল। ২০১০ সালে সংসদে সেই সংক্রান্ত একটি বিল পেশ করাও হয়, কিন্তু তা পাস হয়নি। এদিনের বৈঠকে ওই বিষয়েও ভারতকে ইতিবাচক পদক্ষেপ করতে বলে এই তিনটি দেশ।

২০১০ সালে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী ভারতের সক্রিয় বিভিন্ন সংগঠনের বিদেশি অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আমেরিকা, জার্মানি সহ বেশ কয়েকটি দেশ এই আইনটি বিবেচনা করে দেখতে বলে ভারতকে। সামরিক বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন(আফস্পা)-এ সামরিক বাহিনীকে নাগরিকদের বিনা বিচারে হত্যা করার অধিকার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে, আইনটি পরিবর্তনের দাবি তোলে কয়েকটি দেশ। দাবি ওঠে, সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে না দেখারও।

অত্যাচার বিষয়ক সম্মেলন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রোহাতগি বলেন, “অত্যাচারের ধারণা আমাদের সংস্কৃতিতে নেই”, তবে ওই সম্মেলনকে স্বীকৃতি দেওয়ার আশ্বাস দেন অ্যাটর্নি জেনারেল। কিন্তু আফস্পা তুলে নেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি মুকুল। বরং তিনি বলেন, “এই আইনটি রদ করা হবে কি না, তা নিয়ে আমাদের দেশে বর্তমানে প্রাণবন্ত রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here