উরি হামলার পর কেটে গেছে তিন তিনটে দিন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত এখনই যে সামরিক আগ্রাসনে যাবে না, এটা বলাই যায়। তা সে যতই কেন্দ্রীয় সরকার বলতে থাকুক, ‘প্রত্যাঘাতের সব রাস্তাই খোলা’ আর সেনাবাহিনী বলুক, ‘কখন কী ভাবে প্রত্যাঘাত করব সেটা আমাদের ব্যাপার’।

উরি হামলার পরের দিন নিজের বাসভবনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও সেনাকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে কূটনৈতিক ভাবে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত কয়েক দিনের ঘটনাক্রমে দেখা যাচ্ছে এই উদ্দেশ্যে অনেকটাই সফল ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জের অধিবেশনে পাকিস্তান খুব চেয়েছিল যে করে হোক কাশ্মীর সমস্যাকে তুলে ধরতে। কিন্তু গত মঙ্গলবার অধ্যক্ষ বান কি মুন তাঁর বিদায়ী ভাষণে একবারও কাশ্মীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি। অথচ সিরিয়া উদ্বাস্তু সমস্যা, পালেস্তাইন সমস্যা, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা, ইয়েমেন, দক্ষিণ সুদান, মধ্য-প্রাচ্য, লিবিয়া, দুই কোরিয়ার মধ্যে ঠাণ্ডা যুদ্ধ, সবই ঠাঁই পেয়েছিল মুনের বক্তব্যে।

অন্যদিকে প্রকাশ্যেই জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করেছে চিন, যারা পাকিস্তানের মিত্র দেশ হিসেবেই পরিচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর ব্রিটেন হামলার তীব্র নিন্দা করে ভারতের পাশে দাঁড়ালেও, পাকিস্তানকে সরাসরি আক্রমণ করেনি। রাশিয়া আর ফ্রান্স কিন্তু সরাসরি পাকিস্তানের নাম নিয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে পাকঅধিকৃত কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত যৌথ সামরিক মহড়া বাতিল করে দিয়েছে রাশিয়া। এই ব্যাপারে ভারত পাশে পেয়েছে আফগানিস্তানকেও। সে দেশের রাষ্ট্রদূত নভেম্বরে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বয়কট করার জন্য প্রতিটি দেশের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

এখন দেখার, সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত পাকিস্তান নিজের ঘাড় থেকে সব দায় ঝেড়ে ফেলতে পারে কিনা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here