নীতীন গডকড়ী

ওয়েবডেস্ক: জাতীয় সড়ক প্রকল্পে (highway projects) আর কোনো চিনা সংস্থার অংশগ্রহণ অনুমোদন করবে না কেন্দ্র। ভারত-চিন সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়করী (Nitin Gadkari) জানান, যৌথ উদ্যোগের কোনো জাতীয় সড়ক প্রকল্পে চিনা সংস্থাকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে না।

গড়করী বলেন, দেশের ক্ষুদ্র, ছোটো এবং মাঝারি সংস্থাগুলিতে (MSME) চিনা বিনিয়োগ ঠেকানোর যাবতীয় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গত ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় (Galwan Valley) চিনা সেনার অতর্কিত আক্রমণে নিহত হন ২০ জন ভারতীয় জওয়ান। এর পরই একাধিক ক্ষেত্রে চিনের বিনিয়োগ বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। একই ভাবে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গত সোমবার ৫৯টি মোবাইল অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়।

এ বার জাতীয় সড়ক!

মন্ত্রী এ দিন বলেন, “আমরা স্থির করেছি রাস্তা নির্মাণেও কোনো চিনা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে অনুমোদন দেওয়া হবে না। আমরা এ বিষয়ে একটি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছি। চিনা সংস্থাগুলি যদি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেও আমাদের দেশে বিনিয়োগে উৎসাহ দেখায়, তা হলেও তাদের অনুমতি দেওয়া হবে না”।

সড়ক পরিবহণ, জাতীয় সড়ক এবং এমএসএমই মন্ত্রী গড়করী বলেন, “শীঘ্রই এই ক্ষেত্রগুলিতে চিনা সংস্থাগুলিকে নিষিদ্ধ করার নীতি প্রকাশিত হবে। উল্টো দিকে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে উৎসাহিত করতে বেশ কিছু বিধি শিথিল করা হবে”।

ইতিমধ্যেই এমন কিছু প্রকল্প চলছে, যেখানে চিনা সংস্থাগুলির অংশিদারিত্ব রয়েছে। সেগুলির কী হবে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “নতুন সিদ্ধান্তটি বর্তমান এবং ভবিষ্যতের টেন্ডারে কার্যকর করা হবে”।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, আমরা স্থির করেছি, “আমাদের ঘরোয়া সংস্থাগুলিকে উৎসাহিত করতে বেশ কিছু বিধি শিথিল করা হবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত পদক্ষেপের জন্য জাতীয় সড়কসচিব গিরিধর আরমানে এবং এনএইচএআই চেয়ারম্যান এসএস সান্ধুকে একটি বৈঠকে আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছি। দেশীয় সংস্থাগুলির জন্য এমন নীতি নেওয়া হবে, যাতে তারা কাজের যোগ্যতা অর্জন করতে পারে”।

চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল

ভারতীয় রেলেন অধীনস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডর কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (DFCCIL) সিগন্যালিংয়ের কাজে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল চিনের বেজিং ন্যাশনাল রেলওয়ে রিসার্চ অ্যান্ড ডিজাইন ইনস্টিটিউট অব সিগন্যাল অ্যান্ড কমিউনিকেশনের সঙ্গে। কিন্তু দুর্বল দক্ষতার জন্য সেই চুক্তি খারিজ করছে ডিএফসিসিআইএল।

কানপুর-দীনদয়াল উপাধ্যায় পর্যন্ত ৪১৭ কিমি দীর্ঘ পথে সিগন্যালিং এবং টেলিকমিউনিকেশনে কাজে ওই চিনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করা হয়। বিশ্ব ব্যাঙ্ক (World Bank) এই প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ৪৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। রেল সূত্রে খবর, এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিশ্ব ব্যাঙ্কের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন