seaplane

ওয়েবডেস্ক: নদীমাতৃক এই দেশে জলপথ পরিবহণ নতুন কিছু নয়। তবে সনাতন ভারতীয় এই পরিবহণ মাধ্যম গতির যুগে অনেকটা হলেও তার মহিমা হারিয়েছে। নৌকায় যাতায়াত অনেকটাই সীমিত হয়ে এসেছে আনন্দমূলক ভ্রমণে, লঞ্চযাত্রার নিত্যযাত্রীর সংখ্যাও কমে আসছে নিয়ত।

গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে জলপথ পরিবহণের সেই গরিমা এবার যদিও ফিরে আসতে চলেছে। রবিবার মুম্বইয়ে জলবিমানের মহড়া অন্তত সে কথাই বলছে।

জানা গিয়েছে, খুব তাড়াতাড়ি ভারতের সব নদীতে জলবিমান চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। রবিবার জলবিমানের মহড়ায় হাজিরা দিয়ে, মুম্বইয়ের সমুদ্রের বুক থেকে এ কথা জানিয়েছেন ভারতের জলসম্পদ উন্নয়ন এবং সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গডকরি। রবিবারের এই মহড়ায় তাঁর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন নাগরিক বিমানমন্ত্রী অশোক রাজুও।

মুম্বই বিমানবন্দর থেকে রবিবার সকালে ১২ জন যাত্রী নেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিশেষ জলবিমানটি উড়ান দেয়। যদিও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় উড়ানের পরে বিমানটিকে আর দেখা যায়নি। আবহাওয়ার কারণেই মুম্বইয়ের সমুদ্রের বুকে তা নামতে ঘণ্টাখানেক মতো সময়ও নেয়। ততক্ষণ পর্যন্ত সমুদ্রের বুকেই একটি নৌকায় অপেক্ষা করছিলেন গডকরি এবং রাজু।

আবহাওয়া যেরকমই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত জলবিমানটির মহড়া সার্থক হয়েছে বলেই জানিয়েছেন গডকরি। প্রথমে কথা ছিল, উত্তরপ্রদেশে গঙ্গার বুকে এর মহড়া হবে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের কারণে সেই সিদ্ধান্ত বদলে নিতে বাধ্য হয় সরকার। “যাই হোক, আমরা আপাতত অনেকটাই নিশ্চিত যে ভারতের নদীপথেও সার্থক ভাবে জলবিমান চালানো যাবে। যদিও তার জন্য কিছু সময় লাগবে আমাদের। বেশি নয়, মাত্র বছরখানেকের অপেক্ষা। তার পরেই ভারতের সব নদীপথ জলবিমানের দৌলতে সংযুক্ত হবে”, দাবি গডকরির।

জানা গিয়েছে, আপাতত ভারতের নদীপথে জলবিমান চালানোর জন্য স্পাইসজেট সংস্থার সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন গডকরি। “স্পাইসজেট আমাদের প্রস্তাবে রাজি হয়েছে। সংস্থা আপাতত ১০০টি জলবিমান নামাতে চলেছে ভারতের নদীপথে। অন্যান্য বিমান সংস্থার সঙ্গেও কথাবার্তা চলছে আমাদের। আমরা আশাবাদী, ভারতীয় পরিবহণ এবার এক নতুন রূপ নেবে”, জানিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি অশোক রাজুর আশা, এই জলবিমান ভারতের নদীপথ শাসন করতে শুরু করলে প্রত্যন্ত ভারতের সঙ্গে নাগরিক ভারতের যোগাযোগের কাজটি অনেক সহজ হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here