নয়াদিল্লি : ভারত কূটনীতির ক্ষেত্রে কাজে লাগাচ্ছে মহাকাশকেও। ২০১৪ সালের নভেম্বরে নেপালে আয়োজিত সার্ক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ উৎক্ষেপণের কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই মতোই আগামী ৫ মে উৎক্ষেপণ হতে চলেছে একটি উপগ্রহ। নাম ‘সাউথ এশিয়া স্যাটেলাইট’ বা সাস (এসএএস)। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিকে এটি উপহার দিতে চলেছে ভারত। উদ্দেশ্য, সার্কভুক্ত দেশগুলির যোগাযোগের নানা ক্ষেত্রের সুযোগসুবিধা আরও দৃঢ় করা। এই সুবিধের মধ্যে যেমন রয়েছে টেলিযোগাযোগ তেমনই রয়েছে টেলিমেডিসিন ব্যবস্থাও।

৫ মে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে শ্রীহরিকোটা থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হবে। জিএসএলভি-এর সাহায্যে এটি উৎক্ষেপিত হবে।

৫০ মিটার লম্বা রকেট। ওজন ২,২৩০ কিলোগ্রাম।

এই উপগ্রহটি তৈরি করতে সময় লেগেছে ৩ বছর।

এটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ২৩৫ কোটি টাকা।

উপগ্রহটি ব্যবহৃত হবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে।

এতে ১২ কিইউ ব্যান্ডের ট্রান্সপোন্ডার ব্যবহার করা হয়েছে। যাতে গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলো যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগাতে পারে।

প্রতিটি দেশ অন্ততপক্ষে একটি করে ট্রান্সপোন্ডার ব্যবহার করতে পারবে, যেখানে তারা নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে। পাশাপাশি থাকবে সাধারণ ‘সাউথ এশিয়ান প্রোগ্রামিং’ও।

এই উপগ্রহটি এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে এটি প্রতিবেশী দেশগুলির যোগাযোগের ক্ষেত্রে যাবতীয় পরিষেবা ও অ্যাপলিকেশন কাজে লাগাতে সক্ষম। তার মধ্যে রয়েছে — টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, টেলিভিশন সম্প্রচার, ডিরেক্ট টু হোম পরিষেবা, দেশের যে কোনো প্রান্তিক এলাকায় টেলিশিক্ষা, টেলিচিকিৎসা, বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে সব রকম সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ।

নেপাল, ভুটান, মলদ্বীপ, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা এই অভিযানের অংশ হতে সম্মত হয়েছে। শীঘ্রই চুক্তি স্বাক্ষর করবে আফগানিস্তান। পাকিস্তান ছাড়া সার্কগোষ্ঠীভুক্ত সব ক’টি দেশই এই ‘সাস’ উপগ্রহের সুবিধে নিতে প্রস্তুত।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র প্রশান্ত আগরওয়াল বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ’ স্লোগানটি আরও বৃহত্তর ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দিয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার গরিব দেশগুলোর সাধারণ মানুষের প্রয়োজনের স্বার্থে এই উপগ্রহ উৎক্ষেপণের কথা চিন্তা করেছিলেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here