নভেম্বরে পাকিস্তানে সার্কের বৈঠকে যোগ দেবেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিদেশ মন্ত্রক থেকে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে। বর্তমানে সার্কের প্রধান দেশ নেপালকে ভারতের এই অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে ওই বিবৃতিতে। ‘সীমান্ত-পার সন্ত্রাসী হামলা’-র ফলে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা সার্ক বৈঠকের পক্ষে ‘উপযোগী নয়’ বলে মন্তব্য করেছে বিদেশ মন্ত্রক।

সূত্রের খবর, আট সদস্যের এই গোষ্ঠীর তিন সদস্য, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এবং ভূটানও ওই বৈঠকে যোগ দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। ফলে, কার্যত ওই বৈঠকের স্থান বদল করা ছাড়া কোনও উপায় থাকছে না।

উরিতে জঙ্গি হামলায় ১৮ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যুর পর থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। সোমবার রাষ্ট্রপুঞ্জে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন পাকিস্তানকে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সিন্ধুর জল আরও বেশি করে ব্যবহার করার।  সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, “রক্ত ও জল একসঙ্গে বইতে পারে না”। এই পরিপ্রেক্ষিতে পাক বিদেশমন্ত্রী সরতাজ আজিজ মঙ্গলবার মন্তব্য করেন, “ভারত যদি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়, তবে তা ‘যুদ্ধের সমতূল্য কাজ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। উল্টোদিকে চাপ বাড়িয়েছে ভারতও। পাকিস্তানকে দেওয়া ‘সবচেয়ে সুবিধাবাদী রাষ্ট্র’-এর স্বীকৃতি পুনর্বিবেচনা করতে বৃহস্পতিবার বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু পাকিস্তানে সার্ক বৈঠকে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নি‌ঃসন্দেহে ভারতের দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী চাল বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও ভারতের তরফে কোনও সরকারি বক্তব্য তারা হাতে পায়নি। তবে, ভারতের এই ঘোষণা দুর্ভাগ্যজনক। ‘পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম চালানো ও সেগুলিকে আর্থিক সাহায্য করার’ জন্য এদিনের বিবৃতিতে ভারতকে অভিযুক্ত করেছে পাক সরকার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here