বর্ষায় ভারতে প্রায় ৯৮ হাজার শিশু জলবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়

0
monsoon
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: অনেকটা দেরি করে হলেও বর্ষার দিন এসে গিয়েছে। ঠিক এই সময়ই প্রতি বছর দেশের বহু মানুষ জলবাহিত রোগের কবলে পড়ে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের শিশু ও মহিলা বহির্বিভাগের হিসাব অন্তত তাই বলছে। শিশুরা ও বড়োরা যে সব জলবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হয় তার মধ্যে রয়েছে পেট খারাপ, কলেরা, জ্বর, বমি, পেটে সংক্রমণ, জন্ডিস অর্থাৎ হেপাটাইটিস এ এবং ই ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষিত জল ও খাবার থেকেই এই সংক্রমণ ছড়ায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যেই বিষয়টি সকলের নজরে এনেছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ভারতে এর হার সাংঘাতিক ভাবে বেশি। সংস্থার হিসাব থেকে জানা গিয়েছে, ৯৮ হাজার শিশু এই পেট খারাপ ও অন্যান্য জলবাহিত রোগে ভোগে।

বেঙ্গালুরু ভিত্তিক অ্যাসটার সিএমআই হসপিটালের ডা. বিন্দু জলবাহিত রোগ ও তা প্রতিরোধ করার কিছু উপায় বাতলেছেন।

জানিয়েছেন, এই সময় কোন ধরনের রোগ খুব বেশি হয়?

পড়ুন – কম বয়সে ঋতুমতী হলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের আশঙ্কা বেড়ে যায়, বলছে গবেষণা

বর্ষায় ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস এ এবং ই এই সমস্ত রোগ বেশি হয়। জলবাহিত রোগগুলির মধ্যে যেগুলি এই সময় বেশি হয় সেগুলি হল, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস এ, তীব্র গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিস।

কী করা উচিত ও কী উচিত নয়?

কী কী করতেই হবে –

বিশুদ্ধ জল পান করতে হবে। অথবা জল ফুটিয়ে খেতে হবে। কিংবা ক্লোরিনাইড ওয়াটার অর্থাৎ ক্লোরিন দ্বারা পরিশুদ্ধ জল পান করতে হবে।  

ভালো করে, ঠিক মাত্রায় সেদ্ধ করে রান্না করা খাবার খেতে হবে।  

রান্না করার আগে আনাজপাতি পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে।

খোলা জায়গায় কেটে রেখে দেওয়া ফল খাওয়া চলবে না।

বর্জ্য ও মানুষের মলমূত্র ত্যাগের উপযুক্ত ব্যবস্থা করতে হবে।

খাবার খাওয়ার আগে ও পরে খুব ভালো করে হাত ধুতে হবে।

শরীরে জলের পরিমাণ ঠিক রাখতে নুন ও লবণ মিশ্রিত জল পান করতে হবে বেশ কয়েকবার।

খাওয়া যেতে পারে –

নুন দেওয়া দইয়ের ঘোল

নুন দিয়ে রান্না করা সবজি ও মুরগির মাংসের সুপ

নুন দেওয়া ফ্যান

আরও পড়ুন – ভারতে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ

খাওয়া যেতে পারে ওআরএস-এর জলও।  

কী কী একদম করবেন না –

নিজে নিজে ওষুধ খাবেন না

সাধারণ পেট খারাপের রোগে অ্যান্টিবায়োটিক কোনো রকম কাজ দেয় না। মলদ্বার দিয়ে রক্ত বের হলে তখনই এটি কাজ দেয়।

অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হলে কী ভাবে খেতে হবে?

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ ওষুধ নির্দিষ্ট সময়েই খেতে হবে। তার থেকে কম বা বেশি নয়।

তিনি বলেন-

ভাইরাল হেপাটাইটিস হলে ত্বক ও চোখের রং হলুদ হয়ে যায়। প্রস্রাব গাঢ় ও মলের রং বিবর্ণ হয়ে যায়। খিদে থাকে না।

এই জাতীয় রোগে সুস্থ হতে দুই থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগে।

জল ও খাবারের সংক্রমণের কারণে এই রোগ হয়।

হেপাটাইটিস এ-এর জন্য প্রতিষেধক আছে। কিন্তু ই ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক হয় না।

সব ক্ষেত্রেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বর্ষায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে ডাবের জল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here